রাশিয়া সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার মস্কো সফরের দ্বিতীয় দিনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিধি আরও প্রসারিত করতে একটি নতুন পর্যালোচনা কমিশন গঠন, পরমাণু সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যপথ সহজতর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পরিবহণ করিডোর
গত বছরের ২১ অগস্ট ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক এক বছর পর আবারও মুখোমুখি হলেন জয়শঙ্কর। এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিও পুতিনের হাতে তুলে দেন বিদেশমন্ত্রী।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলি ছিল:
- বাণিজ্যলক্ষ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার কোটি টাকা) উন্নীত করার রোডম্যাপ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
- প্রধান ক্ষেত্র: বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস (ওষুধ) এবং শিপিং সেক্টরকে (জাহাজ চলাচল)।
- পরিবহণ পথ: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যপথ আরও সহজ করতে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডোর (INSTC) এবং চেন্নাই-ভ্লাদিভস্তক সামুদ্রিক করিডোর পুরোপুরি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য দিক: জ্বালানি ও সার সরবরাহ বৃদ্ধি, পরমাণু সহযোগিতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কূটনৈতিক তাৎপর্য ও জয়শঙ্করের বক্তব্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপড়েনের বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পুতিন ও জয়শঙ্করের এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদদের একাংশ।
বৈঠকের শুরুতেই পুতিনকে উদ্দেশ্য করে জয়শঙ্কর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। তিনি আমাকে একটি ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন, যা আমি আপনার হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের আন্তঃসরকারি কমিশনের একটি বৈঠক হয়েছে এবং আপনাকে দেওয়ার মতো একটি সামগ্রিক ও ইতিবাচক রিপোর্ট তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।” এছাড়া আগামী দিনে সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে সাইডলাইন বৈঠক এবং পরবর্তীতে ‘ব্রিক্স’ (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানানোর বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

