আইপিএলে দল বদল করতে গিয়ে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা খেলেন ঋষভ পন্থ। লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে দিল্লি ক্যাপিটালসে তাঁর যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথেই প্রকাশ্যে এসেছে পন্থের নতুন বেতনক্রম। জানা গেছে, লখনউতে যে পন্থের বার্ষিক বেতন ছিল ২৭ কোটি টাকা, দিল্লিতে ফেরার পর তা একধাক্কায় ১২ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকায়। আইপিএলের ইতিহাসে ‘ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে এত বিপুল পরিমাণ বেতন কমিয়ে অন্য কোনো ক্রিকেটারের দলবদলের নজির এর আগে দেখা যায়নি।
দুই বছর আগের আইপিএল মেগা নিলামে ঋষভ পন্থকে রেকর্ড ২৭ কোটি টাকায় দলে শামিল করেছিল লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেই সময় তিনি আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত ক্রিকেটার হয়েছিলেন। তবে লখনউয়ের জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায়, দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এবার তাঁকে নিজেদের দলে ফিরিয়ে নিল দিল্লি।
নিলাম বনাম ট্রেডিং: বেতনের ফারাকের ইতিহাস
যদিও ‘ট্রেডিং’ বা সরাসরি দলবদলের ক্ষেত্রে পন্থের এই বেতনের ঘাটতি রেকর্ড গড়েছে, তবে আইপিএলের সাধারণ নিলামে (Auction) এর আগে একাধিক ক্রিকেটারের এর চেয়েও বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান বা বেতনের ফারাক দেখার নজির রয়েছে।
আইপিএলের ইতিহাসে নিলামে দল বদলে সবচেয়ে বড় আর্থিক পতনের তালিকায় শীর্ষের কয়েকটি নাম:
- বেঙ্কটেশ আয়ার (১৬.৭৫ কোটি টাকার ফারাক): ২০২৫ সালের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাঁকে ২৩.৭৫ কোটি টাকায় রিটেইন/ক্রয় করেছিল। তবে পরের বছর কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দিলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) তাঁকে মাত্র ৭ কোটি টাকায় কেনে। অর্থাৎ, তাঁর বেতনের ফারাক ছিল ১৬.৭৫ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুর হয়ে তিনি ইতিমধ্যে দু’বার আইপিএল ট্রফিও জিতেছেন।
- স্যাম কারেন (১৬.১ কোটি টাকার ফারাক): পাঞ্জাব কিংস এই ইংলিশ অলরাউন্ডারকে ১৮.৫ কোটি টাকায় কিনেছিল। পরবর্তীতে নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) মাত্র ২.৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নেয়। ফলে কারেনের পারিশ্রমিক কমেছিল ১৬.১ কোটি টাকা।
- কাইল জেমিসন (১৪ কোটি টাকার ফারাক): ২০২১ সালের নিলামে নিউজিল্যান্ডের এই পেসারকে ১৫ কোটি টাকায় কিনেছিল বেঙ্গালুরু। পরবর্তীতে চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে মাত্র ১ কোটি টাকায় দলে টানে।
- মিচেল স্টার্ক (১৩ কোটি টাকার ফারাক): অস্ট্রেলীয় গতি তারকা মিচেল স্টার্ককে কেকেআর রেকর্ড ২৪.৭৫ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল। তবে এর পরের নিলামে তাঁর দর কমে দাঁড়ায় ১১.৭৫ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় ১৩ কোটি টাকা কম।
‘ঘরে’ ফিরেছেন পন্থ
আর্থিক ক্ষতি হলেও ঋষভ পন্থের এই দলবদলকে তাঁর ক্রিকেটীয় ‘হোমকামিং’ বা ঘরে ফেরা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, আইপিএলের মঞ্চে দিল্লির হয়েই পন্থের মূল উত্থান ঘটেছিল এবং দীর্ঘদিন তিনি এই দলের অধিনায়কত্বও সামলেছেন। পারফরম্যান্সের গ্রাফ পুনরুজ্জীবিত করতে পন্থের এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

