দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো নিট ইউজি (NEET-UG)-র পুনঃপরীক্ষা। রবিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি থেকে বেরিয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এবারের পুনঃপরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার।
রাজ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ২১৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে সূত্রের খবর, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষার তুলনায় ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষায় রাজ্যের অনেক কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কিছুটা কম ছিল।
কঠিন পদার্থবিদ্যা, পরীক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরোনো শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের দাবি, ৩ মে-র প্রথম পরীক্ষাটিই তুলনামূলক ভালো হয়েছিল।
- কঠিন প্রশ্নপত্র: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন পড়া মালদহের অনুষ্কা আগরওয়াল এবং টলিগঞ্জ ও খিদিরপুরের একাধিক পরীক্ষার্থীর মতে, এবারের পদার্থবিদ্যা (Physics) বিষয়ের প্রশ্ন বেশ কঠিন হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রান্তের পরীক্ষার্থীদের গলাতেও। তাঁদের একাংশের দাবি, জীববিদ্যা (Biology) ভালো হলেও পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন তাদের ভাবিয়েছে।
- ভিন্ন মত: অবশ্য ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়াও মিলেছে। হাওড়ার পরীক্ষার্থী উতথ্য মান্না জানান, পরীক্ষা বাতিলের পর প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত এক মাস সময় পাওয়ায় তাঁর পরীক্ষা মোটের ওপর ভালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে এবং দেশের বাইরে ১৪টি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে এই মেগা প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজন করেছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
অদম্য ইচ্ছা: পাঁজরের ৯টি হাড় ভাঙা অবস্থাতেও পরীক্ষা দিলেন সৃষ্টি
এবারের নিট পুনঃপরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ও মানবিক দৃশ্য দেখা গেল দক্ষিণ কলকাতার বিনোদিনী বালিকা বিদ্যালয়ে। গত ১৪ জুন এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হন সৃষ্টি দুবে নামের এক পরীক্ষার্থিনী। দুর্ঘটনায় তাঁর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙে যায়।
মেয়ের এই অবস্থায় সৃষ্টির বাবা সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনটিএ-র তরফে সৃষ্টির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষার সময় তাঁর সুরক্ষায় পরীক্ষাকেন্দ্রের এক তলায় বিশেষ রুমের বন্দোবস্ত করা হয়। উপস্থিত ছিল একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং কেন্দ্রের বাইরে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল একটি অ্যাম্বুল্যান্স। চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতেই জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বসেন সৃষ্টি।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও ট্রাফিক সতর্কতা
রবিবার রবীন্দ্র সেতুসহ কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হওয়ায় সকাল থেকেই কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। রাস্তায় যানজট ও বিলম্বের আশঙ্কায় ভোরবেলাতেই অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এনটিএ আগেই জানিয়েছিল, বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের জন্য সময় লাগবে। ফলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে ভিড় জমান পরীক্ষার্থীরা।
পটভূমি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার পর দেশজুড়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয় এনটিএ। এর আগে ২০২৪ সালেও এনটিএ-র বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ হয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনসহ একাধিক কঠোর ও নজিরবিহীন সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা।

