মালদহের মোথাবাড়িতে স্ট্র্যাটেজিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিভিউ (SIR) বা এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় অফিসারদের আটকে রাখার ঘটনায় এবার আইনি তৎপরতা শুরু হলো। এই সংক্রান্ত মোট ১২টি মামলার মধ্যে চারটিতে মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে (City Sessions Court) প্রথম চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এনআইএ সূত্রের খবর, দাখিল করা চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং একরামুল বাদনানি ওরফে আক্রামুল বাগানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ঘটিয়ে এই চার্জশিট আদালতে পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চার্জশিট
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট চারটি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিন জন করে অভিযুক্তের নাম রয়েছে। বাকি দুটি মামলার একটিতে ১৫ জন এবং অন্যটিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত তথ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। ঘটনার দিন কার কী ভূমিকা ছিল, তা এতে সবিস্তার উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, অভিযুক্তেরা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জমায়েত হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং মালদহ জেলায় এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় অফিসারদের বেআইনিভাবে আটকে রাখেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৎপরতা
মোথাবাড়ির এই সংবেদনশীল মামলায় এনআইএ-কে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। গত ১১ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দু’মাস সময় বেঁধে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের সেই কড়া নির্দেশিকা মেনেই মঙ্গলবার এই চারটি মামলার চার্জশিট দাখিল করল এনআইএ।
উল্লেখ্য, এসআইআরের তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে মালদহের মোথাবাড়িতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারকদের ঘেরাও করেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (Suo Motu) মামলা শোনে এবং আদালতের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়।
মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ও আক্রামুলের ভূমিকা
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে মোফাক্কেরুল ইসলামকে পুরো অশান্তির ‘মূলচক্রী’ বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আদালতে উল্লেখ করেছিল। অভিযোগ, মোথাবাড়িতে অশান্তি শুরু হওয়ার আগে কালিয়াচকে একটি টোটোয় উঠে উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন মোফাক্কেরুল, যা জনতাকে প্ররোচিত করেছিল।
ঘটনার পর থেকেই মোফাক্কেরুল পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য সিআইডি (CID)। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় আক্রামুল বাগানিকেও। অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার থেকে বাইকে চাপিয়ে মোফাক্কেরুলকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন আক্রামুল।
মঙ্গলবার আদালতকে এনআইএ জানিয়েছে, এই দু’জনকেই নতুন একটি মামলায় যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) সংগ্রহ করার অনুমতিও চেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

