পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’-এর ফলাফল। অধিকাংশ সংস্থার সমীক্ষায় রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিজেপি-কে এগিয়ে রাখা হলেও, কয়েকটি সমীক্ষা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা ধরে রাখার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠছে।
সমীক্ষার ফলাফল একনজরে:
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য জাদুসংখ্যা বা ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় প্রাপ্ত আসনের সম্ভাব্য চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| সমীক্ষক সংস্থা | বিজেপি (সম্ভাব্য আসন) | তৃণমূল (সম্ভাব্য আসন) | বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য |
| ম্যাট্রিজ় | ১৪৬ – ১৬১ | ১২৫ – ১৪০ | ৬ – ১০ (অন্যান্য) |
| চাণক্য স্ট্র্যাটেজি | ১৫০ – ১৬০ | ১৩০ – ১৪০ | ৬ – ১০ (অন্যান্য) |
| পি-মার্ক | ১৫০ – ১৭৫ | ১১৮ – ১৩৮ | ০ |
| প্রজা পোল | ১৭৮ – ২০৮ | ৮৫ – ১১০ | ০ – ৫ (অন্যান্য) |
| পোল ডায়েরি | ১৪২ – ১৭১ | ৯৯ – ১২৭ | ৫ – ৯ (অন্যান্য) |
| পিপল্স পাল্স | ৯৫ – ১১০ | ১৭৮ – ১৮৯ | ১ – ৪ |
| জনমত পোল্স | ৮০ – ৯০ | ১৯৫ – ২০৫ | ৪ – ৯ |
| জেভিসি | ১৩৮ – ১৫৯ | ১৩১ – ১৫২ | ০ – ২ |
বিশ্লেষণ:
ম্যাট্রিজ়, চাণক্য স্ট্র্যাটেজি, পি-মার্ক এবং প্রজা পোল-এর মতো সংস্থাগুলি বিজেপি-কে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রজা পোল বিজেপি-কে সর্বাধিক ২০৮টি আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, পিপল্স পাল্স এবং জনমত পোল্স-এর সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। জেভিসি-র সমীক্ষায় দুই দলের মধ্যেই অত্যন্ত নিকটতম লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ সমীক্ষাই বাম ও কংগ্রেসের জন্য এ রাজ্যে কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি।
ভোটের হার ও প্রেক্ষাপট:
এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর ভোটদানের হার নজির গড়েছে। প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং আজ বুধবার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অতিরিক্ত ভোটদান সাধারণত পরিবর্তনের লক্ষণ কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা:
নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, বুথফেরত সমীক্ষা সবসময় সঠিক প্রমাণিত হয় না। ২০২১ সালের নির্বাচনেও অনেক সমীক্ষা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল এবং তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। আগামী ৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগণনা করা হবে। সে দিনই স্পষ্ট হবে বুথফেরত সমীক্ষার এই পূর্বাভাস বাস্তবের প্রতিফলন নাকি শেষ মুহূর্তে হিসেবে কোনো বড় রদবদল ঘটবে।

