দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করছে বিরোধী শিবির। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের ব্যর্থতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পুনরায় ইমপিচমেন্ট (Impeachment) নোটিস আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি।
ইমপিচমেন্টের নতুন সলতে পাকানো
সূত্র মারফত জানা গেছে, শনিবার বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাবের খসড়া তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গতবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নোটিস জমা দিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। তবে সেই প্রস্তাব সেবার খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এবার নতুন উদ্যমে সেই প্রক্রিয়াই শুরু করতে চাইছে বিরোধী জোট।
অভিষেক-রাহুল ফোনালাপ ও বিরোধী ঐক্য
শুক্রবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই ঘটনার পরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, এই ফোনালাপে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলির পাঁচজন সাংসদ এখন ইমপিচমেন্ট নোটিসের খসড়া তৈরির কাজ করছেন।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও পরিসংখ্যান
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে হলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।
- গতবার তৃণমূলের উদ্যোগে এই অপসারণের দাবিতে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সাংসদ সই করেছিলেন।
- এবারের সমীকরণেও কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং এসপি-র মতো দলগুলি এই ইস্যুতে একজোট হয়েছে বলে খবর।
কেন পিছিয়ে পড়ল কেন্দ্র?
শুক্রবার সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করানোর জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও, বিলের পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ২৯৮টি, আর বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোটাভুটি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে একটি বড় ‘ধাক্কা’। অন্যদিকে, এই ঘটনা বিরোধী জোটকে নতুন করে রাজনৈতিক অক্সিজেন জুগিয়েছে, যাকে হাতিয়ার করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নতুন করে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।
ভবিষ্যতে কোনো বড় বিল পাশ করাতে গেলে সরকারকে যে সংসদের গাণিতিক হিসেব নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে, তা শুক্রবারের ভোটাভুটির পর স্পষ্ট হয়ে গেছে। সেই একই কৌশল ও একতা বজায় রেখে এবার নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে বিরোধী শিবির।

