বিশাল স্কোর খাড়া করেও রক্ষণ করতে ব্যর্থ চেন্নাই সুপার কিংস। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে হারের পর দলের দুই রিস্ট স্পিনার রাহুল চাহার ও নুর আহমেদকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। তাঁর মতে, মাঝের ওভারে এই দুই বোলারের ব্যর্থতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ভুল প্রমাণিত রণকৌশল
ম্যাচ শেষে রুতুরাজ জানান, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের তালিকায় জেমি ওভারটন বা গুরজপনীত সিংহের মতো পেসার থাকা সত্ত্বেও তিনি দুই স্পিনারের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনজন পেসার দলে থাকায় মাঝের ওভারগুলোতে দুই রিস্ট স্পিনার বিপক্ষকে চাপে রাখতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা বুমেরাং হয়ে দেখা দেয়।
ক্ষুব্ধ সিএসকে অধিনায়ক বলেন:
“আমাদের পরিকল্পনা ছিল দুই রিস্ট স্পিনারকে দিয়ে মাঝের ওভারে আক্রমণ করার। কিন্তু দিনটা ওদের ছিল না এবং সেটাই আমাদের ডুবিয়েছে। কখনও পরিকল্পনা কাজ করে, আবার কখনও করে না। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আমাদের কৌশল একেবারেই খাটেনি।”
পরিসংখ্যানের খতিয়ান
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও স্পিনারদের বিবর্ণ দশা স্পষ্ট।
- স্পিনারদের পারফরম্যান্স: রাহুল চাহার ও নুর আহমেদ মিলে নির্ধারিত ৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই খরচ করেন ৮৪ রান।
- পেসারদের অবদান: দলের তিন পেসার ১০.৪ ওভারে ১২৫ রান দিলেও তাঁরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন।
রুতুরাজ মনে করেন, যখন পাঞ্জাবের প্রয়োজনীয় রানরেট প্রতি ওভারে ১১ ছিল, তখন যদি স্পিনারেরা উইকেট তুলে চাপ সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে রানরেট ১২-১৩ তে পৌঁছে যেত। কিন্তু উইকেট তুলতে না পারায় পাঞ্জাব ব্যাটাররা অনায়াসে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যান।
সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যৎ
টানা দুই ম্যাচ হারার পর চেন্নাই শিবিরের অন্দরে এখন অস্বস্তির ছায়া। বিশেষ করে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের সঠিক ব্যবহার এবং বোলারদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের এই প্রকাশ্য সমালোচনা দলের দুই স্পিনারের আত্মবিশ্বাসে কতটা প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তী ম্যাচে চিপকের টিম ম্যানেজমেন্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।

