প্রসূতি মৃত্যুর (মাতৃমৃত্যু) ঘটনায় দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম সারিতে উঠে আসায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এ বিষয়ে জানান, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে জেলাস্তরে পর্যালোচনা বৈঠক শুরু করার পাশাপাশি একটি দ্বিমুখী সচেতনতা-প্রচার অভিযান শুরু করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে গর্ভধারণের ঘটনা এই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশে নাবালিকাদের গর্ভধারণের (টিনেজ় প্রেগন্যান্সি) তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। জেলাওয়ারি পর্যালোচনায় ১২ বছরের কিশোরীর মা হওয়া এবং ১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে প্রসূতি মৃত্যুর মতো ঘটনাও স্বাস্হ্য দফতরের নজরে এসেছে।
বিশেষ গুরুত্ব ও মূল পদক্ষেপসমূহ:
- মূল লক্ষ্য: মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালানো হবে— ১. কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ রোধ করা। ২. ‘দুয়ের বেশি সন্তান নয়’ নীতি প্রচার ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণে উৎসাহ দেওয়া।
- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বা ‘হটস্পট’: রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর হারে শীর্ষস্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং পশ্চিম মেদিনীপুর। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি-১, সুতি-২ এবং সামশেরগঞ্জ ব্লককে নাবালিকাদের গর্ভধারণের প্রধান ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- প্রশাসনিক ও আইনি অবস্থান: ১৮ বছরের কম বয়সিদের বিয়েকে সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন নাবালিকা বিবাহের খবর পেলেই সামাজিক ভাবে তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- এলাকাভিত্তিক প্রচার কৌশল:
- পশ্চিম মেদিনীপুর: জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অলচিকি ভাষা জানা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠানো হবে। এছাড়া ‘মাদার্স পিকনিক’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গানের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হবে।
- মুর্শিদাবাদ ও মালদহ: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে ওই একই সম্প্রদায়ের চিকিৎসকেরা গিয়ে প্রচার চালাবেন।
- সামাজিক অংশগ্রহণ: প্রচার কর্মসূচিতে গ্রামীণ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় সাংবাদিকদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের তরফে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার আশানুরূপ নয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ সিস্টেম রিফর্ম প্রোগ্রাম’-এর আওতায় স্বাস্থ্য দফতরের সাথে জেলা, মহকুমা ও ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকদের যৌথভাবে যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানে সরকার বদ্ধপরিকর।

