ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গণহারে ‘ফর্ম-৭’ জমা দিয়ে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ জারি করেছে তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) সি সুদর্শন রেড্ডি। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য বা অসৎ উদ্দেশ্যে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহত্তর হায়দরাবাদ পুরসভার কমিশনার, হায়দরাবাদের জেলা শিক্ষা অধিকর্তা (DEO) এবং রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। সিইও নির্দেশিকায় জানিয়েছেন:
- ইলেক্টোর্যাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) কাছে গণহারে ফর্ম-৭ জমা পড়ার একাধিক অভিযোগ এসেছে, যার মধ্যে বহু ফর্মই ভুয়া বা জালিয়াতি করা।
- ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার ২০ নম্বর বিধি মেনে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাধারণত কোনো মৃত ব্যক্তি বা বাসস্থান স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজে ফর্ম-৭ ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় ক্ষমতাসীন কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, হায়দরাবাদসহ রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় কংগ্রেস নেতা, কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করতে আগে থেকেই পূরণ করা ফর্ম-৭ অপব্যবহার করা হচ্ছে। কংগ্রেসের তরফে এ বিষয়ে তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবিও তোলা হয় এবং হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, এসআইআর পর্বে ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে গণহারে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে শুধু তেলেঙ্গানাই নয়, পূর্বে পশ্চিমবঙ্গেও তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুনানিকেন্দ্রে ভাঙচুর, ফর্ম পোড়ানো এবং পথঅবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে ফর্ম পোড়ানোর ঘটনায় এফআইআর দায়ের না করায় রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি-কে সুপ্রিম কোর্টের কারণ দর্শানোর (Show Cause) মুখেও পড়তে হয়েছিল।

