SIR in Bengal: প্রাণ কাড়ল SIR-ই! শুনানির নোটিশ পেয়ে আত্মঘাতী অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী…

‘প্রাণঘাতী’ SIR। শুনানি-আতঙ্কে এবার আত্মঘাতী অবসরপ্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী! ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য় ছড়াল পূ্র্ব মেদিনীপুরের রামনগরে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম  বিমল শী। রামনগর থানার  সাদি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করতেন বছর পঁচাত্তরের ওই বৃদ্ধের। পরিবারের লোকেদের দাবি, SIR-এ শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন বিমল। আগামী শুক্রবারই ছিল শুনানি। ছেলের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনানি নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন বারা। সেই আতঙ্কেই গতকাল সোমবার গভীর রাতে আত্মহত্যা করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। মৃতদেহ মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় বিধায়ক অখিল গিরি ও কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি। এই ঘটনার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, কমিশনের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে। 

নজরে ছাব্বিশ। বাংলায় SIR। খসড়া তালিকায় প্রকাশের পর এবার শুরু হয়েছে শুনানি। পুরুলিয়ায় শুনানির দিনেই রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় এক আদিবাসী বৃদ্ধের দেহ। মৃতের নাম,  দুর্জন মাঝি। বাড়ি,  পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের চৌতালা গ্রামে। পরিবারের দাবি, SIR-র পর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ছিল না বিরাশের বছরের ওই বৃদ্ধের। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল তাঁকে। গতকাল, সোমবারই ছিল শুনানি। কিন্তু তার আগেই  সাতসকালে গ্রামের পাশেই রেললাইনে পাওয়া যায় দুর্জনের দেহ। আতঙ্কে আত্মহত্য়া করেছেন বলে অভিযোগ।

SIR-র শুনানির আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে হাওড়ার আমতায়ও। মৃতের নাম, শেখ জামাত আলি। আমতার সাবসীট গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রাহ্মণ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। আজ, সোমবার ভোররাতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় বছর বাষট্টির ওই  প্রৌঢ়ের। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম ছিল জামাতের। গতকাল, রবিবারই শুনানির নোটিশ আসে।  শুনানি ছিল বছরের শেষদিন, ৩১ ডিসেম্বর। টেনশনেই হার্ট অ্যাটাক বলে অভিযোগ।

গত শনিবার থেকে চলছে SIR-র শুনানি। প্রথম দফায় ডাকা হচ্ছে মূলত ‘ম্যাপিং’য়ের বাইরে থাকা ভোটারদের। কিন্তু এই প্রক্রিয়াতেও অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠেছে। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকী, অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে হিয়ারিংয়ে যেতে দেখা গিয়েছে ভোটারদের। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে, গতকাল সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিরাকোলে  SIR-র শুনানি পরিদর্শনে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কমিশনের রোল অবজার্ভার সি মুরুগানকে। 

‘সহ্যের একটা সীমা আছে’। রাজ্য়বাসীকে হেনস্থার ফের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাসের মঞ্চে তিনি বলেন, অনেক সহ্য করেছি। সহ্য করছি। ধৈর্য্য ধরছি। মনে রাখবেন সহ্যেরও একটা সীমা থাকে’।  এরপরই কমিশনের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয় যে. SIR শুনানিতে  বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের  হাজির হতে বাধ্য করা যাবে না। নিজেরা বা তাঁদের হয়ে কেউ অনুরোধ জানালে তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হবে না।  ইতিমধ্যেই যদি কোনও নোটিস জারি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে শুনানিতে না আসার অনুরোধ জানানো যেতে পারে। যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োজনে তাঁদের নিজ নিজ বাসভবনেই সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.