আবাস যোজনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ‘অযোগ্যদের’ টাকা ফেরতের নির্দেশে কোচবিহারে সরব পঞ্চায়েতমন্ত্রী

আবাস যোজনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ‘অযোগ্যদের’ টাকা ফেরতের নির্দেশে কোচবিহারে সরব পঞ্চায়েতমন্ত্রী

আবাস যোজনায় অনিয়মে জড়িতদের আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কোচবিহার সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, অন্যায়ভাবে সরকারি টাকা পাওয়া ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো হবে এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত নেওয়া হবে।

দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর রবিবার কোচবিহারে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত হন দিলীপ ঘোষ। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার পঞ্চায়েত বিভাগের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত ওই প্রশাসনিক বৈঠকের পূর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আবাস যোজনায় এ যাবৎ প্রায় ৫৫ লক্ষ নতুন আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিটি আবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই বা ‘ভেরিফিকেশন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ধাপে ধাপে যাচাই শেষ হওয়ার পর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

পঞ্চায়েত স্তরে অডিট ও কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি

তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজ (মনরেগা) প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অডিট প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যে সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকা থেকে অনিয়মের বেশি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে বিশেষ অডিট (স্পেশ্যাল অডিট) চালানো হবে। অডিটে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে অপরাধী পঞ্চায়েত প্রধান হোক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির জন্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে অভিযুক্ত করে তিনি দাবি করেন, অডিটের পর দোষীদের রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি

রবিবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক ও পরিচালনগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেশ কিছু পঞ্চায়েতে কাজের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা হবে। জনপরিষেবা সচল রাখতে যে সকল পঞ্চায়েতে প্রধান পর পর ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকবেন বা কাজ চালচ্ছেন না, সেই সমস্ত পঞ্চায়েতে অবিলম্বে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তরের উন্নয়নে প্রশাসনিক বৈঠকের খুঁটিনাটি

এই ভিডিওটিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর প্রশাসনিক পর্যালোচনার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.