পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া রাজ্য সরকারের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঘোষণা অনুযায়ী, নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে জনপ্রিয় ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নাম রাখা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিখরচায় সাইকেল বণ্টনের প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে করা হচ্ছে ‘সারথি’।
অপরিবর্তিত সুবিধা ও পরিকাঠামো
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর সুযোগ-সুবিধা, বরাদ্দ অর্থ কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসবে না। উপভোক্তারা আগের মতোই সমস্ত সুবিধা লাভ করবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“প্রতি বছর ১৪ অগস্ট যেভাবে রাজ্যজুড়ে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদযাপন করা হতো, সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এবার থেকে এটি ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পটিকে ‘সারথি’ হিসেবে নতুন পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে।
নাম পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে মেয়েদের স্কুলছুট বন্ধ করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীশিক্ষা প্রসারে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করেন। তিনটি ধাপে বিস্তৃত এই প্রকল্পের অধীনে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর ১,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হতো। ১৮ বছর পূর্ণ হলে এবং অবিবাহিত থাকলে মিলতো এককালীন ২৫,০০০ টাকা। এছাড়া স্নাতকোত্তর স্তরে উচ্চশিক্ষার জন্যও বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা ছিল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসিত এই প্রকল্প জাতিসংঘের (United Nations) বিশেষ সম্মাননাও লাভ করে।
তৃণমূল সরকারের মেয়াদ সমাপ্তির আড়াই মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে প্রশাসনিক সূত্রের আশ্বাস, নাম পরিবর্তন সত্ত্বেও সমস্ত সাধারণ উপভোক্তা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে থাকবেন।

