পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার আবহে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিল ইরান। তবে এই ঘোষণার পাশাপাশি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এর চেয়েও কঠোর ও জোরালো জবাব দেওয়া হবে। ইরানের এই সিদ্ধান্তের কিছু সময় আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে জানান, দুই দেশই ‘অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতি চাইছে’।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও মার্কিন অবরোধ জারি
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ একাধিক পোস্টের মাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেন। প্রথম পোস্টে যুদ্ধ বন্ধের কড়া বার্তার পর, পরবর্তী পোস্টে তিনি লেখেন:
“ইসরায়েল এবং ইরান, উভয় পক্ষই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করতে চাইছে। শান্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে, তবে অজ্ঞতা বা কারও মূর্খতা এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”
একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর কঠোর সামরিক অবরোধ জারি থাকবে। বিষয়টিকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে প্রায় আধ ঘণ্টা কথা বলেন এবং ইরানে নতুন করে কোনো প্রত্যাঘাত না করার নির্দেশ দেন।
সংঘাতের পটভূমি ও ‘অপারেশন’ যুদ্ধ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই দিনে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ (বা লায়নস রোর) নামে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানি বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করেছিল।
- নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি ও সাময়িক বিরতি: এই সংঘাতের প্রক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতোল্লা খামেনেইসহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও বেসামরিক নেতার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় সরাসরি সংঘর্ষ বন্ধ ছিল।
- লেবানন ও রবিবারের সংঘাত: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত হামলার প্রতিবাদে গত রবিবার থেকে ইরান পুনরায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
- সোমবারের বিমান হানা: সোমবার সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা চালালে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে।
তেহরানের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা
সোমবার দুপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পরপরই তেহরান তাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের কথা জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, সে দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ইরানি সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল তখনই স্থায়ী হবে যদি ইসরায়েল লেবাননে তাদের বোমাবর্ষণ বন্ধ করে। অন্যথায় ইসরায়েলকে এর চড়া মূল্য চোকাতে হবে।

