টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে নটরাজন চন্দ্রশেখরনকে পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। রবিবার প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নোয়েল টাটার নেতৃত্বাধীন টাটা ট্রাস্টস এই পুনর্নিয়োগ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে।
টাটা সন্সের আনুমানিক ৬৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে টাটা ট্রাস্টস এবং এর অধীনস্থ অন্যান্য ট্রাস্টগুলির হাতে। পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) ট্রাস্টের মনোনীত দুজন পরিচালকও রয়েছেন। ফলে টাটা সন্সের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনোনীত পরিচালকদের মতভেদ ও প্রস্তাবের বৈধতা
টাটা ট্রাস্টসের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, চন্দ্রশেখরন ট্রাস্ট মনোনীত পরিচালকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি। ট্রাস্টের নিয়মাবলি উল্লেখ করে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো প্রস্তাব বৈধ হতে হলে ট্রাস্ট মনোনীত উভয় পরিচালকেরই সমর্থন আবশ্যিক। দুজনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বোর্ড বৈঠকে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বৈঠকে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা সরাসরি চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ট্রাস্টের অপর মনোনীত পরিচালক ভেনু শ্রীনিবাসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদান করেন। শ্রীনিবাসন ‘স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট’ এবং ‘স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট’-এর প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ‘স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট’ পরবর্তীতে জানিয়েছে, বৈঠকে শ্রীনিবাসনের প্রতিনিধিত্ব বৈধ ছিল না।
‘কাস্টিং ভোট’ প্রয়োগ এবং ট্রাস্টসের আপত্তি
নোয়েল টাটা এবং ভেনু শ্রীনিবাসনের মধ্যে ভোটাভুটিতে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় বৈঠক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টাটা সন্সের ‘নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি’র চেয়ারম্যান তথা স্বতন্ত্র পরিচালক (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর) হরিশ মানওয়ানি তাঁর নির্ণায়ক ভোট (‘কাস্টিং ভোট’) প্রয়োগ করেন এবং পুনর্নিয়োগ প্রস্তাবটি পাশ করান।
এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে রবিবারের বিবৃতিতে ট্রাস্টস স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাস্ট মনোনীত পরিচালকদের মধ্যে দ্বিমত থাকলে পর্ষদের চেয়ারম্যান কোনো নির্ণায়ক ভোট দিতে পারেন না। বোর্ড মিটিংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সাধারণ ভোটে যদি বিষয়ের মীমাংসা না হয়, কেবল সেই পরিস্থিতিতেই চেয়ারম্যানের কাস্টিং ভোট দেওয়ার এক্তিয়ার থাকে।
পদত্যাগ ও উত্তরসূরি নির্বাচন প্রসঙ্গ
গত ১২ আগস্ট চন্দ্রশেখরন জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে থাকবেন না। তাঁর এই ঘোষণার মাধ্যমেই টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
নোয়েল শিবিরের দাবি, চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের ঘোষণার পর উক্ত পর্ষদ বৈঠকটি কেবল তাঁর উত্তরসূরি বা নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের আলোচনার জন্য ডাকা যেত, তাঁকে পুনরায় মেয়াদবৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য নয়। সব মিলিয়ে, টাটা সন্সের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আইনি ও প্রশাসনিক দড়ি টানাটানি শিল্পমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

