বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের জেরে উপকূলের জেলাগুলিতে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই দিঘা, মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতগুলিতে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মন্দারমণিতে সমুদ্রের জলস্তর খানিক বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলের অনেকটা অংশে জল উঠে আসতে দেখা গেছে। এই দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমলেও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নিম্নচাপের অবস্থান
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বর্তমানে এই নিম্নচাপটি ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বুধবার দিনভর পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার বিকেলে থেকেই দিঘা ও মন্দারমণিতে মাইক প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে।
উপকূলবর্তী এলাকায় কড়া সতর্কতা ও মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা
দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাট-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রের কাছাকাছি যেতে বারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাও।

