বৈভবের কীর্তিতে বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন গ্রেগ চ্যাপেল! ভারতের প্রাক্তন কোচের পরামর্শ তিনটি নিয়ম বদলের

বৈভবের কীর্তিতে বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন গ্রেগ চ্যাপেল! ভারতের প্রাক্তন কোচের পরামর্শ তিনটি নিয়ম বদলের

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (IPL) মাত্র ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কিংবদন্তি ক্রিকেটার তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ গ্রেগ চ্যাপেল। নিজের একটি কলামে বৈভবের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, বিশেষত আইপিএলের চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। চ্যাপেলের মতে, এই ফরম্যাটটি এখন পুরোপুরি ব্যাটারদের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। খেলাটিতে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে সমতা ফেরাতে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বদলের প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৈভবের পারফরম্যান্সকে ‘বিস্ফোরণ’ আখ্যা চ্যাপেলের

নিজের কলামে বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ড সৃষ্টিকারী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে গ্রেগ চ্যাপেল লিখেছেন:

“১৫ বছর বয়সে বৈভব সূর্যবংশী আইপিএলে শুধু ছাপই ফেলেনি, একেবারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিয়েছে। ২৩৭.৩ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে ও বিশ্বের সবচেয়ে ভাল বোলিং আক্রমণকেও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এক মরসুমে ৭২টি ছয় মেরে ও টপকে গিয়েছে ক্রিস গেলের নজিরকেও। সাধারণ ক্রিকেটীয় যুক্তিতে ওর পারফরম্যান্স বর্ণনাই করা যাবে না।”

তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি চ্যাপেল একটি ভিন্ন দিকও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শারীরিক গঠন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি এমন একটি কম বয়সী ছেলে যদি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বোলারদের এভাবে শাসন করতে পারে, তবে বুঝতে হবে বর্তমান ক্রিকেটের কাঠামোর মধ্যেই বড় কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ফরম্যাটের ভারসাম্য নিয়ে অসন্তোষ

চ্যাপেল মনে করেন, আইপিএলে প্রবর্তিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ (Impact Player)-এর মতো নিয়মগুলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বাভাবিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এই নিয়মের কারণে দলগুলো অনায়াসে একজন অতিরিক্ত ব্যাটার খেলানোর সুবিধা পাচ্ছে, যার ফলে অসাধারণ পারফরম্যান্সও এখন অতি সাধারণ ও নিত্যদিনের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

খেলা উন্নত করতে চ্যাপেলের ৩টি বৈপ্লবিক পরামর্শ

ক্রিকেটের এই ব্যাটিং-নির্ভরতা কমাতে এবং বোলারদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে গ্রেগ চ্যাপেল প্রধানত তিনটি নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন:

  • ১. সর্বোচ্চ ছ’টি উইকেটের নিয়ম: চ্যাপেলের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং দলের হাতে সর্বোচ্চ ১০টির পরিবর্তে ৬টি উইকেট থাকা উচিত। বর্তমানে ব্যাটিং গভীরতা বেশি থাকায় ব্যাটাররা উইকেটের তোয়াক্কা না করে যথেচ্ছ শট খেলেন। উইকেট সংখ্যা সীমিত করলে ব্যাটিং ধস আটকানোর তাগিদে খেলায় রোমাঞ্চ ও দায়িত্বশীলতা ফিরবে।
  • ২. পিচে ঘাস রাখার নতুন ফর্মুলা: জোরে বোলারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পিচে অন্তত ৩ মিলিমিটার ঘাস রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চ্যাপেলের মতে, পিচের এক দিক ঘাসযুক্ত এবং অন্য দিক শুষ্ক বা স্পিন-সহায়ক করা উচিত, যাতে বোলাররা সাহায্য পান।
  • ৩. এলবিডব্লিউ (LBW) নিয়মের সরলীকরণ: বর্তমান এলবিডব্লিউ নিয়মে ব্যাটাররা অন্যায় সুবিধা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন চ্যাপেল। তাঁর প্রস্তাব, বর্তমান জটিল নিয়ম তুলে দিয়ে আম্পায়ারদের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হোক। যে বলটি সরাসরি উইকেটে আঘাত করবে বলে মনে হবে, সেটিকে সরাসরি আউট ঘোষণা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.