পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় ও উন্নত করতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উত্তরবঙ্গে একটি বিশাল যোগকেন্দ্র ও কালিম্পং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত দীর্ঘ রোপওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বৈঠকে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
উত্তরবঙ্গে এক হাজার মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যোগকেন্দ্র
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব যোগ দিবসের তাৎপর্য বজায় রাখতে এবং উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে চাঙ্গা করতে সেখানে একটি আধুনিক যোগকেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে দ্রুত উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জমি পাওয়া মাত্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রস্তাবিত এই যোগকেন্দ্রে একসঙ্গে অন্তত এক হাজার মানুষ যোগব্যায়াম অনুশীলন করতে পারবেন।
কালিম্পং থেকে দার্জিলিং ২২ কিলোমিটার রোপওয়ে
পাহাড়ে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে এবং যানজট এড়াতে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। সিদ্ধান্ত হয়েছে, কালিম্পং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে নির্মাণ করা হবে। পর্যটন দফতরের এক আধিকারিকের মতে, এই বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হলে দুই শৈলশহরের মধ্যে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে। এটি যেমন পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়াবে, তেমনই পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
বিমানবন্দরের মাধ্যমে প্রচার ও জলপথের পরিকাঠামো উন্নয়ন
রাজ্যের পর্যটনকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে এবার দেশের সমস্ত প্রধান বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, দিঘা-মন্দারমনির সমুদ্র সৈকত এবং ডুয়ার্স-দার্জিলিঙের পাহাড় ও বনাঞ্চলের সৌন্দর্য প্রচার করা হবে।
পাশাপাশি, জলপথ পর্যটনকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:
- জলযান পরিষেবা: সুন্দরবনে পর্যটকদের জন্য প্রমোদতরী (ক্রুজ) এবং দিঘা-মন্দারমনিতে স্পিডবোট চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা: পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সুন্দরবন এবং দিঘা-মন্দারমনিতে বিশেষ রেসকিউ বোট এবং ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হবে।
নতুন লোগো উন্মোচন
রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতরকে নতুন রূপ দিতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিনে পর্যটন দফতরের নতুন লোগো উন্মোচন করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নের এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীসহ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা।

