আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ও বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত ২ কোটি টাকা জমা না দেওয়ায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে তীব্র ভর্ৎসনা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চেক বাউন্স সংক্রান্ত একটি বহুল চর্চিত মামলায় গত ৫ অক্টোবর শুনানিকালে শীর্ষ আদালত অভিনেতার আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই ধরনের ঔদ্ধত্যের জবাব দেওয়া হবে।
মামলার পটভূমি ও ২ কোটি টাকা অনাদায় একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য রাজপাল যাদবকে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অর্থ মেটাতে ২০১০ সালে তিনি ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট সাতটি চেক দেন, যার প্রতিটিই বাউন্স করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে স্থির হয়েছিল অভিনেতা, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের প্রযোজনা সংস্থা সুদ-সহ মোট প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দেবেন। অভিযোগ, সেই অর্থ দীর্ঘদিনেও পরিশোধ করা হয়নি।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে চেক বাউন্সের এই মামলায় রাজপাল যাদব ১০ দিন দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
শীর্ষ আদালতের তোপ ও কড়া মন্তব্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ শেষ সুযোগ হিসেবে রাজপালকে বকেয়া ৫ কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ২ কোটি টাকা আদালতের নির্দিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে গত ৫ অক্টোবর সোমবার শুনানিকালে জানা যায়, সেই টাকা জমা দেননি অভিনেতা।
শুনানি চলাকালীন রাজপালের আইনজীবী মন্তব্য করেন, “অভিযোগকারীরা তো গরিব নন।” এই বক্তব্যে বেঞ্চে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ওঁরা হয়তো আপনার চেয়ে বেশি ধনী। কিন্তু আপনি যতটা টাকা তাঁদের কাছ থেকে নিয়েছেন, সেই অর্থের নিরিখে তাঁরা গরিব। এই ঔদ্ধত্য দেখানোর উপযুক্ত জায়গা এটা নয়। কখন মুখ খুলতে হয়, সেটাও আপনার জানা উচিত। আপনার আসল জায়গা জেলই।” আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, অভিনেতার এই ঔদ্ধত্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।
অভিনয়ের অভিযোগ ও পরবর্তী শুনানি সোমবার রাজপালের আইনজীবী ৫০ লক্ষ টাকার একটি ব্যাংক খসড়ার (ব্যাংক ড্রাফট) প্রতিলিপি আদালতে পেশ করে দাবি করেন, ওই অর্থ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর জবাবে অভিযোগকারীর আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনি চলচ্চিত্রের অভিনেতা, আর এখানেও নাটক ও অভিনয় করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রতি তাঁর কোনও শ্রদ্ধা নেই।”
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে সুপ্রিম কোর্ট রাজপাল যাদবকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া টাকা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৭ অক্টোবর।

