অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের পূর্ণশক্তির শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে দাপুটে সূচনা করল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বোলার ও ব্যাটারদের যৌথ নৈপুণ্যে প্যাট কামিন্সদের দারুণ চাপে ফেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিনের শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছে ১ উইকেটে ৯৬ রান।
টস জিতে ভুল সিদ্ধান্ত, হাসানের বিধ্বংসী বোলিং
ডারউইনের এই মাঠে আয়োজিত এটিই প্রথম টেস্ট ম্যাচ। নতুন স্টেডিয়ামের পিচ বুঝতে হয়তো কিছুটা ভুল করে বসেন অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও মাত্র ৫৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্র্যাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড সূচনাটা ভালোই করেছিলেন। তবে ওভারপ্রতি প্রায় ৪ রান তোলার মুহূর্তে আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ২২ রানের মাথায় হেডকে এবং ২৩ রানে ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে অসি শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন তিনি। এর পর দীর্ঘদেহী হাসানের অতিরিক্ত বাউন্স ও ধারাবাহিক বোলিং সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় অসি ব্যাটারদের।
অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে মার্নাস লাবুশেন (১) এবাদত হোসেনের শিকার হন এবং ক্যামেরন গ্রিনকে (১৩) ফেরান তাসকিন আহমেদ। ফলে বিনা উইকেটে ৪৫ রান থেকে আচমকাই ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
স্মিথের একা লড়াই, বাংলাদেশের পেসারদের বাজিমাত
চার উইকেট হারানোর পর অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ এবং উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। পিচের অতিরিক্ত বাউন্স সামলে স্মিথ লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ হন। ক্যারি (১৯) আউট হওয়ার পর পুনরায় ধস নামে স্বাগতিকদের ইনিংসে।
একপ্রান্ত ধরে রেখে স্মিথ ৭১ রান করলেও অন্য প্রান্তে উইকেট পতনের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়ে হাসানের বলেই সাজঘরে ফেরেন। ৫৫ রান খরচ করে একাই ৬টি উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। বাকি ৪টি উইকেট ভাগ করে নেন তাসকিন আহমেদ (২টি) ও এবাদত হোসেন (২টি)। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই দখল করেন বাংলাদেশের পেসারেরা।
তানজিদ-মোমিনুলের দৃঢ়তা এবং স্টার্কের বিশ্বরেকর্ড
অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে বাঁধার পর ব্যাট হাতেও সতর্ক সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার শাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। অসি পেস আক্রমণ সামলে ধৈর্য ধরে ব্যাট করেন তাঁরা। তবে দলীয় রান যখন কিছুটা এগোয়, তখন ২০ রানের মাথায় মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শাদমান।
শাদমানকে আউট করার মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ে বিশ্বরেকর্ড করেন বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। টেস্টে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৪৩৪-এ। এর ফলে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে (৪৩৩ উইকেট) টপকে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেটের মালিক হলেন স্টার্ক।
শাদমান আউট হলেও এরপর মোমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি তানজিদ। ধৈর্যশীল ব্যাটিঙে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান তাঁরা। প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৯৬। তানজিদ তামিম ৩২ রানে এবং মোমিনুল হক ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে বাংলাদেশ।

