বারুদের গন্ধ হেঁশেলে: গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে কি ফিকে হবে কলকাতার রসনাতৃপ্তি?

বারুদের গন্ধ হেঁশেলে: গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে কি ফিকে হবে কলকাতার রসনাতৃপ্তি?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার এসে লাগল বাঙালির অতি প্রিয় মিষ্টি আর বিরিয়ানির হাঁড়িতে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট ও আকাশছোঁয়া দাম খাস কলকাতার খাদ্য রসিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মিষ্টির দোকান, ক্যাফে ও রেস্তরাঁ মালিকরা এখন কার্যত লড়ছেন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।


দামের ঝটকা ও জোগানে টান

কেন্দ্রীয় তেল সংস্থাগুলি সম্প্রতি গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক— উভয় সিলিন্ডারের দামই বাড়িয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সরাসরি কলকাতার বাজারে:

  • ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার: ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা (৬০ টাকা বৃদ্ধি)।
  • ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার: ১১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,০০০ টাকায়

শুধু দাম নয়, জোগানেও দেখা দিয়েছে প্রবল ঘাটতি। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে পশ্চিম এশিয়া থেকে আসা পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (ভারত যার ৮০ শতাংশের জন্য ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল) জোগান ব্যাহত হচ্ছে। মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিতে অনেক ছোট দোকান বন্ধ হতে শুরু করলেও কলকাতা এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।


মিষ্টির বাজারে অশনি সংকেত: পান্তুয়া বনাম রসগোল্লা

শহরের নামী মিষ্টির দোকানগুলির ভবিষ্যৎ এখন গ্যাসের ডিলারদের ফোনের ওপর ঝুলে রয়েছে।

  • বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধারমণ মল্লিক: কর্ণধার সুদীপ মল্লিক জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কাল কী হবে তা কেউ জানে না। ডিলারদের কাছে কোনো আশার আলো নেই।
  • কে সি দাস: তবে রসগোল্লা প্রেমীদের জন্য কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন ধীমান দাস। তাঁদের মিষ্টি মূলত স্টিম বয়লারে তৈরি হওয়ায় আপাতত জোগান স্বাভাবিক। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, গ্যাসের সংকট চললে পান্তুয়া, সরভাজা বা কালোজামের মতো ‘ভাজা মিষ্টি’র বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে।
  • গিরীশচন্দ্র দে অ্যান্ড নকুড়চন্দ্র নন্দী: শুধুমাত্র সন্দেশ বিক্রি করায় এখানে গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম। পার্থ নন্দীর মতে, বর্তমান স্টকে ৪-৫ দিন চললেও তারপর কী হবে তা অনিশ্চিত।

রেস্তরাঁ ও ক্যাফে: মেনুতে কাটছাঁটের আশঙ্কা

বিরিয়ানি থেকে কন্টিনেন্টাল— সব জায়গাতেই ত্রাহি ত্রাহি রব।

  • চাউম্যান ও অউধ ১৫৯০: ডিরেক্টর দেবাদিত্য চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে বিশাল মেনু চালানো সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে আইটেম কমিয়ে ফেলা হতে পারে।
  • ক্যালকাটা ৬৪: ক্যাফের অন্যতম কর্ণধার দেবজিৎ পাল জানান, গ্যাসের জোগানে ঘাটতির সুযোগে কালোবাজারি শুরু হয়েছে। তাঁরা এখন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কমার্শিয়াল ইন্ডাকশন অভেন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যা ক্যাফে পিছু ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ বাড়াবে। একইসঙ্গে হাই ফ্লেমের রান্নাগুলো মেনু থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট: ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইশতিয়াক আহমেদের মতে, বড় মাপের রান্নায় এলপিজি-র বিকল্প মেলা ভার। জোগান স্বাভাবিক না হলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়া নিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.