শ্রী শ্রী মা জ্জগদ্ধাত্রী দুর্গায়ৈ ও রাজরাজেন্দ্র: পর্ব ২

সিংহস্কন্ধসমারূঢ়াং নানালঙ্কারভূষিতাম্।
চতুর্ভূজাং মহাদেবীং নাগযজ্ঞোপবীতিনীম্।।
শঙ্খশার্ঙ্গসমাযুক্তবামপাণিদ্বয়ান্বিতাম্।
চক্রঞ্চ পঞ্চবাণাংশ্চ ধার্য়ন্তিম্ চ দক্ষিণে।।
রক্তবস্ত্রাপরিধানাং বালার্কসদৃশীতনুম্।
নারদাদ্যৈর্মুনিগণৈঃ সেবিতাং ভবসুন্দরীম্।।
ত্রিবলীবলয়োপেতনাভিনালমৃণালিনীম্।।
ইষৎ সহাস্য বদনাং কাঞ্চনাভাং বরপ্রদাম ।
নবযৌবন সম্পন্নাম্ পীনোন্নত পয়োধরম্ ।।
করুণামৃত বষিন্যা পশ্যন্তি সাধকং দৃষা ।
রত্নদ্বীপে মহাদ্বীপে সিংহাসনসমন্বিতে।
প্রফুল্লকমলারূঢ়াং ধ্যায়েত্তাং ভবগেহিনীম্।।
—-বৃহৎ তন্ত্রসার

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার অপর রূপ। উপনিষদে এঁর নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশে প্রচলিত। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর ও নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত।

তো পূর্ব পর্বে যা আলোচনা করছিলাম।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বে হয়ত বঙ্গে বা ভারতে ব্যাপক ভাবে জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন ছিল না।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বের সময়কাল ছিল ১৭২৮ থেকে ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দ। মহারাজ যেহেতু গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের প্রবল পরাক্রান্ত সমাজপতি এবং হিন্দু সংস্কৃতির একজন অধিনেতা, তাই তাঁর পক্ষে কোন পূজা প্রচলন বা মূর্তি পরিকল্পনা করা অসম্ভব ছিলনা। হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবনের কাজের মহারাজের উদ্যম ছিল অপরিমিত। সেই সময় বিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ সুসম্পন্ন করে তাঁর অভিধা হয়েছিল ‘রাজ রাজেন্দ্র অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়’।

চন্দ্রচূড় তর্কচূড়ামনিই হলেন জগদ্ধাত্রী পুজোর পদ্ধতি ও মন্ত্রের স্রষ্টা

একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিপত্তি ও কূটনৈতিক ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কৃষ্ণচন্দ্র শাস্ত্রীয় শাক্তাচারের প্রবল সমর্থক ছিলেন, তিনি সব রকমের শক্তি পূজায় ছিলেন পরম উৎসাহী । তাঁকে বলা যেতে পারে ধর্মসচেতন, শিল্পানুরাগী একজন হিন্দু রাজা। বাংলার ভাস্কর্যে চালারীতি প্রবর্তন করা তাঁর অন্যতম একটি কীর্তি। নবদ্বীপের শাক্তরাস এবং কৃষ্ণনগরের বারোদোলার মেলা তাঁর প্রবর্তিত।

কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির পূজামণ্ডপ বিষ্ণুমহলের অপূর্ব পঙ্খের কাজ এবং অভিনব দুর্গা প্রতিমা, জগদ্ধাত্রী বিগ্রহ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সৌন্দর্যপ্রীতির চমৎকার নিদর্শন প্রদান করে।

কৃষ্ণচন্দ্র রায় জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন বা প্রবর্তন করেছিলে একথা যখন কার্তিক দেওয়ান লিখেছেন তখন উপলব্ধি করতে হবে যে এই পূজা গাঙ্গেয় জনপদে প্রচলিত ছিল না বা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল না। কিন্তু শাস্ত্রে ও ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রী মূর্তি ও পূজা পদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। প্রথমে বলা যাক শাস্ত্রের কথা। চিন্তাহরণ চক্রবর্তী লিখেছেন, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ২০০ বছর আগে ছিল স্মার্ত রঘুনন্দনের কাল। সেই রঘুনন্দনেরও দুশো বছর আগে অর্থাৎ চতুর্দশ শতকে মহামহোপাধ্যায় শূল পানি তাঁর ব্রতকালবিবেক
গ্রন্থে দেবী জগদ্ধাত্রী সম্পর্কে শ্লোক রচনা করেছেন-

কার্ত্তিক মলপক্ষস্য বেতাদৌ নবমেহনি
পূজয়েত্তাং জগদ্ধাত্রী সিংহপৃষ্ঠে নিষেদুষীম্।।

অর্থাৎ কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পুজোর ধারা পূর্ব নির্দেশিত।

শান্তিপুরের ব্রহ্মচারী বাড়ির পূজা

শূলপাণির পর পঞ্চদশ ষোড়শ শতকে বৃহস্পতির রায় মুকুটের স্মৃতিরত্নহার এবং শ্রীনাথ আচার্য চূড়ামণির কৃত্যন্তত্ত্বার্নব গ্রন্থে ওই একই পক্ষমাস ও তিথিতে শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজার কথা উল্লেখ আছে। বাঙালি পণ্ডিত শরনদেব ১১৭২ বঙ্গাব্দে যে চন্ডীটীকা লেখেন তাতেও দেবী জগদ্ধাত্রীর কথা আছে।

মোহিত রায় রচিত নানা রূপে দুর্গা গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি, স্বামী জগদীশ্বরানন্দের মতে প্রায় প্রত্যেক হিন্দুতন্ত্রেই, এমনকি অসংখ্য বৌদ্ধতন্ত্রেও জগদ্ধাত্রীর কথা উল্লেখ আছে । পালরাজাদের আমলেবাংলায় তন্ত্রের বিপুল প্রভাব ছিল। সেই সময় রচিত তন্ত্র পুঁথি সমূহে জগদ্ধাত্রী দেবীর উল্লেখ আছে বলে লিখেছেন পন্ডিত ভান্ডারকর। শ্রী মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের সমসাময়িক বাঙালি স্মার্ত রঘুনন্দন কর্তৃক দুর্গোৎসবতত্ত্ব পুঁথিতে জগদ্ধাত্রী পূজার কথা উল্লেখ আছে।

অর্থাৎ সার বা মূলকথা হল জগদ্ধাত্রী পূজা হল প্রকৃত ভাবে একদিনের নিষ্পাদ্য দুর্গাপূজা। অধ্যাপক চিন্তাহরণ চক্রবর্তীও এই কথা বলেছেন। একদিনের জগদ্ধাত্রী পূজায় চতুর্বর্গ ফল লাভ হয় । কৃষ্ণনগরের কার্তিক নবমীতে একই দিনে জগদ্ধাত্রী পূজা সাত্ত্বিকী , রাজসিকী ও তামসী পূজা হয় প্রাতে, মধ্যাহ্নে ও সন্ধ্যায়। চন্দননগরে চার দিন ব্যাপী পূজা হয়।

কেন উপনিষদে উল্লিখিত একটি উপাখ্যান অনুসারে : একবার দেবাসুর সংগ্রামে দেবগণ অসুরদের পরাস্ত করলেন। কিন্তু তারা বিস্মৃত হলেন যে নিজ শক্তিতে নয়, বরং ব্রহ্মের বলে বলীয়ান হয়েই তাদের এই বিজয়। ফলত তারা হয়ে উঠলেন অহংকার-প্রমত্ত। তখন ব্রহ্ম যক্ষের বেশ ধারণ করে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তিনি একটি তৃণখণ্ড দেবতাদের সম্মুখে পরীক্ষার নিমিত্ত রাখলেন। অগ্নি ও বায়ু তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও সেই তৃণখণ্ডটিকে দগ্ধ বা বিধৌত করতে পারলেন না। তখন দেবগণ ইন্দ্রকে যক্ষের পরিচয় জানবার নিমিত্ত প্রেরণ করলেন। ইন্দ্র অহংকার-প্রমত্ত হয়ে যক্ষের কাছে আসেননি, এসেছিলেন জিজ্ঞাসু হয়ে। তাই ব্রহ্মরূপী যক্ষ তার সম্মুখ হতে তিরোহিত হলেন। বরং তার সম্মুখের আকাশে দিব্য স্ত্রীমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন হৈমবতী উমা। উমা ব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে ইন্দ্রের জ্ঞানপিপাসা নিবৃত্ত করলেন।

সম্পাউপনিষদে উমার রূপবর্ণনা নেই। কেবলমাত্র তাকে হৈমবতী অর্থাৎ স্বর্ণালঙ্কারভূষিতা বলা হয়েছে। তবে এই হৈমবতী উমাই যে দেবী জগদ্ধাত্রী সে প্রত্যয় জন্মে কাত্যায়ণী তন্ত্রের ৭৬ পটলে (অধ্যায়) উল্লিখিত একটি কাহিনি থেকে। এই কাহিনি অনুসারে : একদা ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু ও চন্দ্র – এই চার দেবতা অহংকার-প্রমত্ত হয়ে নিজেদের ঈশ্বর মনে করতে শুরু করলেন। তারা বিস্মৃত হলেন যে দেবতা হলেও তাদের স্বতন্ত্র কোনও শক্তি নেই – মহাশক্তির শক্তিতেই তারা বলীয়ান। দেবগণের এই ভ্রান্তি অপনয়নের জন্য দেবী জগদ্ধাত্রী কোটি সূর্যের তেজ ও কোটি চন্দ্রের প্রভাযুক্ত এক দিব্য মূর্তিতে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। এর পরের কাহিনি কেন উপনিষদে বর্ণিত তৃণখণ্ডের কাহিনির অনুরূপ। দেবী প্রত্যেকের সম্মুখে একটি করে তৃণখণ্ড রাখলেন; কিন্তু চার দেবতার কেউই তাকে স্থানচ্যুত বা ভষ্মীভূত করতে অসমর্থ হলেন। দেবগণ নিজেদের ভুল উপলব্ধি করলেন। তখন দেবী তার তেজোরাশি স্তিমিত করে এই অনিন্দ্য মূর্তি ধারণ করলেন। এই মূর্তি ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা, রক্তাম্বরা, সালংকারা, নাগযজ্ঞোপবীতধারিনী ও দেব-ঋষিগণ কর্তৃক অভিবন্দিতা এক মঙ্গলময়ী মহাদেবীর মূর্তি। সমগ্র জগৎকে পরিব্যাপ্ত করে দেবী দেবগণকে এই মূর্তি দেখালেন; দেবগণও তার স্তবে প্রবুদ্ধ হলেন।

শাস্ত্রের পর এবার আসা যাক শাস্ত্রীয় মতে দেবীমূর্তির কথায়, অর্থাৎ মূর্তি তত্ত্বে।

প্রাচীনকাল থেকে প্রত্ন রূপে দেবী জগদ্ধাত্রীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। আনুমানিক অষ্টম শতকে সময়কালের একটি মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল বাংলাদেশের বরিশাল থেকে, মতান্তরে যশোরের নলডাঙ্গা থেকে। মূর্তিটি অনেক প্রাচীনকালের ইতিহাসের সাক্ষ্যকে বহন করে থাকে।

বীরভূমের হেতমপুর শিবমন্দিরে, চন্ডীদাস নানুরের শিবমন্দিরে , ইলামবাজারের দেউলমন্দিরে টেরাকোটা জগদ্ধাত্রীর মূর্তি আছে । নদীয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিব মন্দির, দিগনগরে রাঘবেশ্বর মন্দিরে জগদ্ধাত্রী মূর্তি আছে । এসবই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্ব সময়ের ব্যাপার।

জগদ্ধাত্রী দেবীর মূর্তিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বামী নির্মলানন্দ বলেছেন, “অর্ক বা সূর্যই বিশ্বের পোষণকর্তা। পৃথিব্যাদি আবর্তনশীল গ্রহ-উপগ্রহদিগকে সূর্যই নিজের দিকে আকর্ষণ করে রেখেছেন। দেবী জগদ্ধাত্রীর মধ্যেও ধারণী ও পোষণী শক্তির পরিচয় বিদ্যমান। তাই তাঁকে বলা হয়েছে বালার্কসদৃশীতনু। একই কারণে জগৎপালক বিষ্ণুর শঙ্খ-চক্র-শার্ঙ্গধনু-আদি আয়ুধ দেবীর শ্রীকরে।… দেবীর রক্তবস্ত্র ও রক্তবর্ণের মধ্যে, দেবীর সিংহাসনস্থ রক্তকমলে সেই রজোগুণেরই ছড়াছড়ি।

তুলসী ভবনের মা জগদ্ধাত্রী

রজোদীপ্ত বলেই জগদ্ধাত্রী মহাশক্তিময়ী। তাঁর অস্ত্রশস্ত্র, তাঁর বাহন – সকলই তাঁর শক্তিমত্তার ভাবটি আমাদের অন্তরে উদ্দীপ্ত করে দেয়। তবে দেবীর এই বীর্য সংহারের নয়। পরন্তু সমগ্র বিশ্বকে মহাসর্বনাশ থেকে রক্ষাপূর্বক তাকে আত্মসত্তায় – ঋতে ও সত্যে সুস্থির করে রাখবার জন্য। … নাগ বা সর্প যোগের পরিচায়ক। উপবীত ব্রাহ্মণ্যশক্তির প্রতীক। দেবী জগদ্ধাত্রী ব্রহ্মময়ী; তিনি পরমা যোগিনী। মহাযোগবলেই ব্রহ্মময়ী ধরে আছেন এই নিখিল বিশ্বসংসারকে। এই জগদ্ধারণই জগদ্ধাত্রীর পরম তপস্যা – তাঁর নিত্য লীলা, তাঁর নিত্য খেলা। জননীরূপে তিনিই বিশ্বপ্রসূতি, আবার ধাত্রীরূপে তিনিই বিশ্বধাত্রী।”

শ্রীশ্রীচণ্ডীর একাদশ অধ্যায়ের অংশে মহাঋষিগণ দেবীর স্তব করেছেন। তাঁরা এই শক্তিরূপার মঞ্জুল শোভা (স্বর্গীয় সৌন্দর্য) প্রত্যক্ষ করেছেন। স্মরণ করেছেন,

“সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষাঃ চতুর্ভিভুজৈঃ, শঙ্খং চক্র ধনু শরাংশ্চ দধতিনেত্রৈঃ স্থিভিঃশোভিতা, আমুক্তাঙ্গদ হারকঙ্কন রণংকাঞ্চী কন্বংনূপুরা –দুর্গা, দুর্গতিনাশিনী, ভবতুয়ো রত্নোলস্যৎকুন্তলা।”

প্রতি পদক্ষেপে মহামায়া দুর্গাকে স্মরণ করেছেন –

“ত্বং বৈষ্ণবীশক্তিরণন্তবীর্যা

বিশ্বাস্য বীজং পরমাসি মায়া

সম্মোহিতং দেবি সমস্তশেতৎ

ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তি-সিদ্ধিহেতুঃ।।”

ইনিই হলেন জগৎধারণকারীনী জগদ্ধাত্রী।

হাওড়া জেলার গ্রাম আন্দুলের চৌধুরী পাড়ার সর্বজনীনের জগদ্ধাত্রী পূজা

জগদ্ধাত্রী প্রতিমায় বাহন সিংহের পদতলে একটি হস্তীমুণ্ড থেকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, জগদ্ধাত্রী দেবী করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ মহাহস্তীরূপী অসুরকে বধ করেছিলেন। এই কারণে দেবী জগদ্ধাত্রী করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী নামে পরিচিত। রামকৃষ্ণ পরমহংসের ভাষায়, “মন করীকে যে বশ করতে পারে তারই হৃদয়ে জগদ্ধাত্রী উদয় হন।… সিংহবাহিনীর সিংহ তাই হাতীকে জব্দ করে রেখেছে।” স্বামী নির্মলানন্দের মতে, “যে-কোনো সাধনায় মনকে সংযত করে বশে আনা সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ। আমাদের মন মত্ত করী, মন-করীকে বশ করতে পারলে সাধনায় সিদ্ধিলাভ অবশ্যম্ভাবী।… মত্ত মন-করীকে বশ করে সাধক-হৃদয়ে জগদ্ধাত্রীর প্রতিষ্ঠায়ই জগদ্ধাত্রী-সাধনার সার্থকতা, পূজার পরিসমাপ্তি।”

করীন্দ্রাসুর এর বর্ণনা ওই নামে না থাকলেও চণ্ডীতে উল্লেখ আছে মহিষাসুর এক মহাহস্তি রুপে দেবীকে আক্রমণ করে এবং দেবী তার মুণ্ড চ্ছেদ করেন…… তখন সে এক পুরুশ রুপে অবতীর্ণ হয়ে দেবীকে যুদ্ধে আওভান করলে ……… মা তাকে তিরে বিদ্ধ করেন……… এই তির ধনুক দেবির এই মূর্তিতে বর্তমান।।

তবে এসব পড়ে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নেব? কৃষ্ণনগরে দেবীর পূজার ঠিক কত প্রাচীন? মহারাজকে কেই বা বিধান দিলেন? কেনই বা এই ধূসর হেমন্তে দেবীর পূজা? কৃষ্ণনগরে প্রকৃত জগদ্ধাত্রীর বাহন কেমন? চালপটি র পূজাই বা কেন শুরু হল?

ক্রমশঃ

দুর্গেশনন্দিনী

তথ্যঃ

১. জগদ্ধাত্রী-তত্ত্ব : পূজা-বিজ্ঞান, স্বামী প্রমেয়ানন্দ

২. দেবদেবী ও তাঁদের বাহন, স্বামী নির্মলানন্দ

৩. হুতোমপ্যাঁচার নক্সা

৪. বিভূতিসুন্দর ভট্টাচার্য “কৃষ্ণচন্দ্র ও জগদ্ধাত্রী পুজো”

৫. মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.