রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। বকেয়া ডিএ-র পুরো ১০০ শতাংশ নয়, রাজ্য সরকার ৮৫ শতাংশ মেটাতে আগ্রহী এবং বাকি ১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ছাড় চাওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে মোট চার কিস্তিতে এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির ঠিক আগের দিন, বুধবার রাজ্য সরকারের তরফে এই স্ট্যাটাস রিপোর্টটি জমা দেওয়া হয়।
রাজ্যের পেশ করা হিসেব ও চার কিস্তির রূপরেখা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে জমা দেওয়া রিপোর্টে রাজ্য উল্লেখ করেছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১,৯৮৩ কোটি টাকা দেওয়ার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিপুল আর্থিক বোঝা সত্ত্বেও সরকার তা ধাপে ধাপে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যের পরিকল্পনা অনুযায়ী বকেয়া মেটানোর সময়সূচি:
- প্রথম কিস্তি: ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ইতিমধ্যেই ৭,৭৭১ কোটি টাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য।
- দ্বিতীয় কিস্তি: ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস।
- তৃতীয় কিস্তি: ২০২৭ সালের জুলাই মাস।
- চতুর্থ ও শেষ কিস্তি: ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাস।
প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও সময় লাগার কারণ
২০০৮ থেকে ২০১৫ এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯— এই দুই মেয়াদে ভাগ করে বকেয়া গণনা করা হচ্ছে। রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
- বিপুল সংখ্যক কর্মীর তথ্য: রাজ্যের অধীনস্থ লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীদের প্রায় ১৪১ মাসের বকেয়া আলাদাভাবে হিসেব করতে হচ্ছে।
- তথ্য প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: ২০১৬ সালের আগের বেতনের হিসেব কম্পিউটারে নথিভুক্ত না থেকে কাগজে-কলমে এনট্রি করা ছিল। সেগুলি ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে এবং এর জন্য একটি নতুন পোর্টালও চালু করা হচ্ছে।
- বিভাগীয় বৈচিত্র্য: রাজ্যের ৯০টি ট্রেজারি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দফতরের বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় পৃথক গণনার প্রয়োজন পড়ছে।
- ই-সার্ভিস বুক: প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মীর বকেয়া ডিএ মেটাতে ই-সার্ভিস বুক তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যাতে বাড়তি সময় লাগছে।
১৫ শতাংশ ছাড় চাওয়ার নেপথ্যে আর্থিক যুক্তি
রাজ্যের যুক্তি, ডিএ মূলত ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়, যার ১০০ শতাংশই দিতে হবে— এমন বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। তা ছাড়া, রাজ্যে বর্তমানে জিএসটি বাবদ আয় কমেছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল আর্থিক ব্যয় হওয়ায় সরকারের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে। এই সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ১৫ শতাংশ ছাড়ের আবেদন বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: সরকারি কর্মীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, রাজ্য তাদের আর্জি আদালতে জমা দিতেই পারে। তবে কর্মী সংগঠনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট— তাঁরা বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশই দ্রুত আদায় করতে চান এবং বৃহস্পতিবার শুনানির সময় আদালতের সমক্ষে এই দাবি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হবে।

