সিকিমে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস: মৃত বেড়ে ১১, বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ও বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

সিকিমে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস: মৃত বেড়ে ১১, বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ও বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

সিকিমের নামচিতে তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। সোমবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও অন্তত ১৫ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গমুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভেতর থেকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক করায় এবং টানা বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১২ জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নামচির জেলাশাসক অনুপ তামাং জানান, ভেতরে ঠিক কতজন আটকে আছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে নামচির পুলিশ সুপার সোনম দলমা ভুটিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৫ জন শ্রমিক এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নামচির সামারদুং এলাকায় তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ চলাকালীন হঠাৎই বিকট শব্দে ধস নামে। চোখের নিমেষে বিশাল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ এসে সুড়ঙ্গমুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে বাইরের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ধসের পরপরই সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ক্ষতিকারক মিথেন গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান ও নতুন বিপর্যয়

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), সিকিম পুলিশ, এনএইচপিসি (NHPCC) এবং দমকলের একাধিক যৌথ দল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলে বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পরবর্তীতে এনডিআরএফ-এর দ্বিতীয় একটি দল বিশেষ সুরক্ষাবর্ম ও অক্সিজেন সরঞ্জাম নিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বর্তমানে বৈরী আবহাওয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেও আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে বাইরে বের করে আনাকেই সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.