বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে অভিনব উদ্যোগ: আমেরিকায় স্প্যানিশ তারকাদের গোলপোস্টের জাল কাটার নেপথ্য কারণ

বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে অভিনব উদ্যোগ: আমেরিকায় স্প্যানিশ তারকাদের গোলপোস্টের জাল কাটার নেপথ্য কারণ

বিশ্বকাপ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর উদযাপনের মাঝে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। জয়ের মুহূর্ত উদযাপনের পাশাপাশি স্পেনের ফুটবলারদের গোলপোস্টের জাল কাঁচি দিয়ে কেটে নিতে দেখা যায়। ফেরান তোরেস, লামিনে ইয়ামাল এবং উনাই সিমনসহ দলের প্রায় সব সদস্যই ঐতিহাসিক ওই ম্যাচের গোলপোস্টের জাল কেটে নিজেদের কাছে স্মারক হিসেবে রেখে দেন। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও এবং ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

ফুটবল মাঠে গোলপোস্টের জাল কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সচরাচর দেখা না গেলেও, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে আমেরিকার ক্রীড়াসংস্কৃতির এক বিশেষ ঐতিহ্য।

বাস্কেটবল সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত স্পেন

আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপে বিশ্বজয়ের স্মারক হিসেবে স্পেনের ফুটবলাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী বাস্কেটবল সংস্কৃতির রীতি অনুসরণ করেছেন।

  • ঐতিহ্যের ইতিহাস: যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট বা চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বাস্কেটের জাল কেটে স্মারক হিসেবে রাখার রেওয়াজ বেশ পুরনো। এই রীতির সূচনা ঘটেছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে।
  • প্রথম ঘটনা: ১৯৪৭ সালে ‘নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট’-এর কোচ এভার্ট কেস সাদার্ন কনফারেন্স খেতাব জয়ের পর প্রথমবার খেলোয়াড়দের কাঁধে চড়ে বাস্কেটের জাল কেটে নিয়েছিলেন। সেই থেকেই এটি মার্কিন বাস্কেটবলে একটি ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিতে পরিণত হয়।

আমেরিকার মাটিতে বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জনের পর স্প্যানিশ তারকারা সেই দেশের ক্রীড়াসংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে ও তা উদযাপনের অংশ হিসেবে গোলপোস্টের জাল সংগ্রহ করেন। ঐতিহাসিক এই স্মারক শুধুই বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক নয়, বরং আমেরিকার ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে স্প্যানিশ দলের এক বিশেষ সংযোগ তৈরি করল বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.