দীর্ঘ তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ খেলার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দল থেকে ব্রাজিল ছিটকে যাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন, তাতেই অনড় থাকার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তাঁর বাবা নেইমার সিনিয়র সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও, তা রাখতে পারলেন না ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
স্যান্টোসের হয়ে ম্যাচ জেতার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার বলেন,
“জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি এবং এতে আমি অত্যন্ত খুশি। জাতীয় দলের জন্য নিজের রক্ত ও জীবন দিয়েছি; সবসময় হলুদ জার্সির মর্যাদার জন্য লড়াই করেছি। তবে আমি আর লড়াই চালাতে চাই না।”
নেইমারের অবসরের ঘোষণার পর আবেগঘন এক বারতায় তাঁর বাবা নেইমার সিনিয়র ছেলের পাশে থেকে চলার স্মৃতি স্মরণ করে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, প্রথম গোল থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার সাক্ষী তিনি নিজে। একজন বাবা হিসেবে এটুকু গর্বই যথেষ্ট উল্লেখ করে তিনি ছেলেকে অনুরোধ করেছিলেন খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে সেই আবেগঘন আর্জি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন ৩৪ বছর বয়সি এই তারকা।
এক নজরদার ক্যারিয়ার
২০১০ সালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটেছিল নেইমারের। কাকতালীয়ভাবে, সেই একই স্টেডিয়ামেই সেলেসাওদের হয়ে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন।
১৬ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্রাজিলের হয়ে ১২৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন নেইমার। দেশের জার্সিতে তিনি মোট ৮০টি গোল করেছেন, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর প্রধান সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০১২ অলিম্পিক: রৌপ্য পদক
- ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ: চ্যাম্পিয়ন
- ২০১৬ অলিম্পিক: স্বর্ণপদক
হলুদ জার্সিতে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখে ব্রাজিলীয় ফুটবলের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন এই তারকা ফুটবলার।

