ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পর এই প্রথম টেলিফোনে দীর্ঘ কথোপকথন হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সোমবার প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা এই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই ফোনালাপের কথা জানান।
‘কৌশলগত সহযোগিতা মজবুত করতে বদ্ধপরিকর’
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর পোস্টে ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে লিখেছেন, “আমার বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার যে উন্নতি হয়েছে, তা নিয়ে কথা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিশ্বজুড়ে কৌশলগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে দুই দেশই অঙ্গীকারবদ্ধ। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
‘ভারতবাসী আপনাকে ভালোবাসেন’
ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার দূত সার্জিও গোর একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। কথোপকথন চলাকালীন মোদী ট্রাম্পকে জানান যে, ভারতের সাধারণ মানুষ তাঁকে অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং ভালোবাসেন।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ভারতের স্বার্থ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন চলছে। ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ থেকে, যার প্রধান পথ হলো এই হরমুজ প্রণালী। ইরান এই পথ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলেও বর্তমানে ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজকে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে দিচ্ছে।
শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপট
গত ২৪ মার্চও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছিল। ইসলামবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি বৈঠক কোনো রফাসূত্র ছাড়াই শেষ হওয়ার পর বর্তমানে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি চলছে। দ্বিতীয় দফায় দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা চলছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মোদীকে ফোন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারত শুরু থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছে।

