মেডিকেল প্রবেশিকা ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যা অর্চিতা সচিন রাহার এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে ঘিরে ওড়িশা রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যা শাসক বিজেপি শিবিরকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবি পোস্ট করে অর্চিতা লেখেন, “নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভের মাঝে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।” এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে সাংসদ-কন্যা লেখেন, “ডিপি (ধর্মেন্দ্র প্রধান)-র আপ্তসহায়ক নিশ্চয়ই আমার মাকে ফোন বা মেসেজ করবেন এবং আগের স্টোরিটি ডিলিট করতে বলবেন (যেমনটা আগেও হয়েছে)। আপনাদের এত খাটতে হবে না, আমি ডিলিট করব না। জয় জগন্নাথ! জয় হিন্দ।”
বার্তাসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের দফতর থেকে ভুবনেশ্বরের দু’বারের সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কাছে ফোন করে পোস্টটি মুছে ফেলার অনুরোধ করা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে অপরাজিতা সরাসরি সংবাদমাধ্যমে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তাঁর দফতরের সহকারী ধনেশ্বর বারিক জানান, “প্রত্যেকের নিজ নিজ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সাংসদের কন্যা জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।” এর ফলে সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে কোনো সমস্যায় পড়বেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সময়ই তা বলে দেবে।”
অন্যদিকে, শনিবার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গী নিজেই। তিনি লেখেন, “নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করার জন্য প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে আমি তাঁর (ধর্মেন্দ্র প্রধানের) পাশে আছি।”
যদিও সাংসদের এই বার্তার পরেও দলীয় অন্দরে সমালোচনা থামেনি। বিজেপির এক প্রবীণ নেতা পিটিআই-কে জানান, একটি সুশৃঙ্খল দলে পরিবারের সদস্য বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়ানোই রীতি; সেখানে দলীয় প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে সাংসদ-কন্যার এমন অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভুবনেশ্বর সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ প্রধানও সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, সাংসদের উচিত নিজের পরিবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ওড়িশা ও দেশের প্রতি ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের কথা মাথায় রেখে সাংসদ-কন্যার উচিত সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

