কেশবচন্দ্রকে সাকার-নিরাকারের পূর্ণত্বে পৌঁছে দিয়েছিলেন যিনি।

[যে প্রতিবাদের ধরন নিয়ে যুগের প্রয়োজনে ব্রাহ্মরা হিন্দুসমাজের বৌদ্ধিক জগতে বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডল রচনা করার প্রয়াস নিয়েছিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের নাব্য-স্রোত তার সমস্তটাই মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও মূল সনাতনীর প্রবাহের গাঙ্গে মিশিয়ে দিল। সম্ভব হল কেশবচন্দ্রকে সম্পৃক্ত করে, জারিত করে।] আজ শ্রীরামকৃষ্ণের স্নেহধন্য কেশবচন্দ্রের জন্মদিন। কারো জন্মদিন এলে তাঁকে স্মরণ-মনন করেRead More →

মহাকাল ও মহাকালী

“দেখো তো চেয়ে আমারে তুমি চিনিতে পার কি না।…দুজনে মিলি সাজায়ে ডালি বসিনু একাসনে,          নটরাজেরে পূজিনু একমনে।কুহেলি গেল, আকাশে আলো দিল-যে পরকাশি          ধূর্জটির মুখের পানে পার্বতীর হাসি।”(সাগরিকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে রুদ্র ও রুদ্রাণীর যোদ্ধৃত্ব রূপের সম্মিলন দরকার। মহাকাল ও মহাকালীর মিলন। শান্তি তো অত্যাচারীও দিতে পারে। কিন্তু সেRead More →

চিরপ্রবাসে কেশবজী

[রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের পক্ষে অখণ্ড বঙ্গের প্রথম প্রান্ত প্রচারক তথা পশ্চিমবঙ্গে সঙ্ঘকার্যের মূল কাণ্ডারী শ্রী কেশবরাও দত্তাত্রেয় দীক্ষিত। রাষ্টীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের এই বরিষ্ঠ প্রচারক বাংলায় একাদিক্রমে ৭২ বছর ধরে প্রচার করে গেছেন দেশপ্রেমের সৌগন্ধ, রাষ্ট্র নির্মাণের কাহিনী। রচনা করেছেন বহু রাষ্ট্রবাদী মনন। সঙ্ঘের যে বয়স, ওঁর-ও সেই বয়স; ১৯২৫Read More →

প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা (১৬ ই আগষ্ট) –অবতার-বরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণ

আমরা জানি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন কলকাতার কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। কিন্তু যিনি ঈশ্বর তাঁর কী জন্ম আছে, না কি মৃত্যু? ঈশ্বর যিনি, তিনি জন্মরহিত, তিনি অবিনশ্বর, তিনি অব্যক্ত, নির্বিশেষ, নির্বিকার। ঈশ্বর যখন সাকাররূপ ধারণ করে আসেন এবং ব্যক্তস্বরূপে লীলাবেশ ধারণ করেন, তখন তিনি অবতারূপে গণ্য হন।Read More →

শিবপুর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের এক প্রকৌশলী হয়ে উঠেছিলেন কবি   তাঁর জন্মদিন ২৬ জুন।যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা।

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (২৬ শে জুন, ১৮৮৭ — ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪)-র ‘হাট’ কবিতাটি (‘মরীচিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, ১৯২৩ খ্রীস্টাব্দ/১৩৩০ বঙ্গাব্দ) ছাত্রজীবনে আমাকে দারুণ ভাবে প্রভাবিত করেছিল। সেই গ্রামের হাট, প্রভাতে যেখানে ঝাঁট পড়ে না, সন্ধ্যায় যেখানে জ্বলেনা প্রদীপ। সেই দশবারোখানি গাঁয়ের মাঝে একটি হাট — পড়ে থাকে আঁধারে, তার দোচালায় মুদেRead More →

রামায়ণ ও রবীন্দ্র-মিথোম্যানিয়া

মিথোম্যানিয়া কী? মিথোম্যানিয়া হচ্ছে দেশীয় পুরাণের প্রতি সদর্থক আসক্তি। এই আসক্তি দ্বিবিধ — প্রথম, সরাসরি পুরাণের ব্যবহার; দ্বিতীয়, মনের মধ্যে পুরাণের যে প্রাসঙ্গিকতা রয়ে যায়, বারে বারে তারই পটভূমিতে সাহিত্যের জগতে মানস-প্রতিমা নির্মাণ। রবীন্দ্রনাথে দু’ধরনের আসক্তিই ছিল। আর ছিল বলেই রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন, শিশুপাঠ্যে শিশুকে সবসময় তার ঐতিহ্যের মধ্যে ঘোরাফেরা করতেRead More →

নেপালে শ্রীরামকে জনপ্রিয় করলেন যিনি

নেপালে রামায়ণ ও শ্রীরামকে জনপ্রিয় করে তোলেন নেপালী ‘আদিকবি’ ভানুভক্ত আচার্য (১৮১৪ — ১৮৬৮)। এতটাই আকর্ষণ যে ভানুভক্তের রামায়ণ পাঠ করার আগ্রহে বহু নেপালী নিরক্ষরতা পরিত্যাগ করে বর্ণ পরিচয় ও পঠন-পাঠনের দৌলতে সাক্ষরতার দিকে এগিয়ে যায়। এই রামায়ণকে কেন্দ্র করেই নেপালী ভাষা গঠনমূলক পর্যায়ে পৌঁছে বিশ্বে স্থায়ী একটি ভাষার মর্যাদাRead More →

পাখি-খাওয়া রয়্যালের ফল গোড়ায় পড়ে থাকতো রাশি রাশি অজস্র।

‘হরবরই’ বা ‘রয়্যাল’ বলে ডাকতাম। ইংরেজিতে Star Gooseberry. এ এক মজার ফল। হরবরই মানে ‘হর’ অর্থাৎ ‘শিব’ এবং ‘বরই’ অর্থাৎ কুল-সদৃশ টক ফল। সুতরাং দাঁড়ালো শিব-কুল। ছোটো থেকে শুনেছি, ‘কুল’ বা বরই বাগদেবীর আশীর্বাদ ধন্য ফল, তাই তার নাম ‘ভারতী-কুল’ ‘সর-বরই’, কারণ দেবী সরস্বতীর অপর নাম ‘ভারতী’। ছোটোবেলায় দেখেছি, ‘খেতেRead More →

করমচা।

তখনও স্কুলে ভর্তি হই নি। ‘খাপছাড়া’ কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি রাবীন্দ্রিক ছড়া মুখস্থ করেছিলাম, ‘অল্পেতে খুশি হবে দামোদর শেঠ কি’, সেখানেই প্রথম পেলাম করমচার কথা।“চিনেবাজারের থেকে     এনো তো করমচা,কাঁকড়ার ডিম চাই,     চাই যে গরম চা”।করমচা চিনতে হবে। মা নিয়ে গেলেন রহড়া, মিশনপাড়ায় পাশের বাড়ি; তাদের উঠোনে একটি করমচার গুল্মে অফুরান ফুল ফুটে আছে।Read More →

পাড়ার পানমাসিরা কোথায় গেলেন!

মায়ের জেঠিমা, মানে আমার দিদিমাকে বলতে শুনেছি এই কথা, “এক জাইত্যা নারী হায়রে পাড়ায় পাড়ায় যায়,/এর কথা তারে কইয়্যা গুয়া তাম্বুল খায়।” পাড়ার পাড়ায় মাসিপিসিদের জোর আড্ডা বসতো সেকালে। পরনিন্দা পরচর্চার শুরুতে আর শেষে তাম্বুল-সেবনের আয়োজন থাকতো। যিনি বাটাভরা পান রোজ রোজ বিলোতে পারতেন তিনিই হতেন মহিলা মহলের নেত্রী। কিছুRead More →