আনন্দবাজারকে মমতা দু হাত ভরে দিয়েছেন শুধু নির্বাচনী প্রচারে আনুগত্য আদায়ের জন্য

আনন্দবাজারকে মমতা দু হাত ভরে দিয়েছেন শুধু নির্বাচনী প্রচারে আনুগত্য আদায়ের জন্য

গতকাল এই দেওয়ালে আনন্দবাজারকে নির্বাচনের আগে ২০ দিনের টেন্ডার বিজ্ঞাপনের জন্য নবান্ন ২ কোটি ৫ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৭২ টাকা দেওয়ার কাহিনীটা প্রমাণ সহ লিখেছিলাম । তা ছাড়াও লিখেছিলাম ডিসপ্লে, টেলিগ্রাফ ও ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য আনন্দবাজারকে মমতা দু হাত ভরে দিয়েছেন শুধু নির্বাচনী প্রচারে আনুগত্য আদায়ের জন্য ।

গতকাল লেখাটা বেরোনোর পর বেজায় ক্ষুব্ধ এক আনন্দ-সাথী আজ ফোন করে সকাল বেলাতেই চ্যালেঞ্জ জানালেন । যা বললেন তার সারসংক্ষেপ – আপনি মিথ্যে লিখছেন । আমি তাঁকে বললাম আমি যা লিখেছি তার প্রমাণতো ভাই তুলে দিয়েছি । অর্থাৎ ওই দু কোটি টাকার পে অর্ডারের প্রতিলিপি । সেটা কি ভুল ? বললাম আর কি প্রমাণ চান বলুন । প্রমাণ হিসেবে পে অর্ডারের ফোটো কপির পর আরও কিছু কি চাই ? সেটা আর কি হতে পারে বলুন ? পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ফোনটি আচমকাই কেটে দিলেন ।

যিনি ফোন করেছিলেন তাঁর কথায় বুঝেছিলাম নবান্ন কিম্বা কালীঘাটের সঙ্গে বাংলা সংবাদ মাধ্যমের যে অবৈধ আঁতাত আছে সেটা এক্সপোজ হওয়াতেই তিনি চটেছেন । রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক । তাই তিনি রেগেছেন । কি আর করা যাবে তাতে !
ভেবেছিলাম হাতে যা তথ্য খেটেখুটে এতদিন জোগাড় করেছি তা ধীরে ধীরে এক্সপোজ করব । জনসমক্ষে জানাব । সরকারকেও তো হজম করার সময় দিতে হবে ।

সেই সময়টা তাদের দেব । আজ বলছি আরও অনেক কিছু সংগ্রহ করে রেখেছি । আজ শুধু আরও একটা তথ্য দিই সেই ফোনে গালিগালাজ করা ভদ্রলোকের জন্য ।

গত ২৪ আগস্ট, ২০২১ নবান্ন আরও একটা পে অর্ডার ছাড়ল । যাতে তথ্য বলছে
নির্বাচনের আগে ১লা ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত আনন্দবাজারের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য নবান্ন দিয়েছে ৪৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮২৯ টাকা । ভাবুন শুধু আনন্দবাজারের ডিজিটাল মাধ্যমকে তিন মাসেই একটা সরকার দিচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা ( নীচে পে অর্ডারের প্রতিলিপি দিলাম ) ।

এই অর্থ নবান্ন আনন্দবাজারকে সেই সময়েই দিল যখন আমরা জানতে পারছি এ রাজ্যের সরকার অর্থের অভাবে চোখের হাসপাতালে গত ৯ বছরে স্থায়ী কোন পদে নিয়োগই করেনি । সরকারি হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করা অপ্টোমেট্রিস্ট পদ হল মোট ৫০৩, তার মধ্যে ২১০ টি পদ এখন ফাঁকা । ফলে চোখের চিকিৎসা এখন ডকে । ওদিকে নিয়োগ হচ্ছে না কারণ সরকারের হাতে এখন টাকা নেই । ফলে ভোটের আগে ভোট কুড়ানোর জন্য ঘোষণা করা সেই ” চোখের আলো ” প্রকল্পটি শেষে কি না বন্ধই হয়ে গেল ! শুরু হওয়ার আগেই শেষ !!

কিছু বলবেন আপনি ?

সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় (৯৮৩০৪২৬০৭৮)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.