তেল আমদানিতে ভারতের সার্বভৌমত্ব অটুট: আমেরিকার ‘ছাড়পত্র’ বিতর্কে কড়া জবাব দিল্লির

তেল আমদানিতে ভারতের সার্বভৌমত্ব অটুট: আমেরিকার ‘ছাড়পত্র’ বিতর্কে কড়া জবাব দিল্লির

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির বিষয়ে আমেরিকার দেওয়া ৩০ দিনের সাময়িক অনুমোদন নিয়ে যখন বিরোধীরা সরব, ঠিক তখনই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মোদী সরকার। বিদেশ ও জ্বালানি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ পথ নির্ধারণে কোনো তৃতীয় পক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়।

জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার

সম্প্রতি আমেরিকা রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক স্তরে প্রশ্ন ওঠে— আমেরিকা কীভাবে ভারতকে অনুমতি দেওয়ার অধিকার পায়? এর জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:

  • স্বনির্ভর সিদ্ধান্ত: জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে ভারত সর্বদা প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সাশ্রয়ী মূল্য যাচাই করে তেল কেনে। সেটি রাশিয়া হোক বা অন্য কোনো দেশ, সিদ্ধান্তটি একান্তই ভারতের নিজস্ব।
  • বিচিত্র উৎস: ভারতের অপরিশোধিত তেলের উৎস গত কয়েক বছরে আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হলেও, বর্তমানে তা ৪০টি দেশে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অস্থিরতা ভারতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছে না।

হরমুজ প্রণালী ও বিকল্প পথ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কোনো টান পড়েনি। কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারত ইতিমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের একাধিক ‘বিকল্প রুট’ বা পথ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে ভারত এখন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

কূটনৈতিক বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে দিল্লি ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব বজায় থাকলেও ভারত তার জ্বালানি ও বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) বিসর্জন দেবে না। ভারত সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.