
লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনা ও ভারতীয় সেনারা সংঘর্ষে একসঙ্গে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর খবরে গোটা দেশই শোকাহত। উল্লেখ্য়, এরই মাঝে শহীদ ভারতীয় সেনার মাঝে রয়েছেন দুই জন পশ্চিমবঙ্গেরও বাসিন্দা।
১৪জুন রবিবার রাতের দিকেও চিনা সেনারা ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। বাধা দেয় পেট্রোলিং-এ। পরের দিন অর্থাৎ ১৫ জুন সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সীমান্ত পরিস্থিতি। গ্যালওয়ান নদীর একটি উঁচু অংশে দুই দেশের সেনারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল আকার নেয়। সেই সময় ভারতীয় সেনাদের গ্যালওয়ান নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। চিনা সেনাদের ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতে বলা হয়। কিন্তু চিনা সেনারা রাজি না হওয়ায় বিহার রেজিমেন্টের কর্নেল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিরস্ত্র একটি দল টহল দেওয়ার পাশাপাশি চিনা সেনাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য যাত্রা শুরু করে। কিন্তু আলোচনায় কোনও লাভ হয়নি। চিনা সেনারা ফিরে যেতে অস্বীকার করে। পাশাপাশি সীমান্তে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। সোমবার রাতে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনা ও ভারতীয় সেনারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই এক কর্নেল-সহ আরও দুই ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর মঙ্গলবার গুরুতর আহত আরও ১৭ জন সৈনিক মারা যান। একসঙ্গে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর খবরে গোটা দেশই শোকাহত।
তাঁর মধ্যে একজন হলেন ২৫ বছর বয়সী বীরভূমের জেলার সদর সূরীর নিকটবর্তী বেলগরিয়া গ্রামের রাজেশ ওরাঙ্গ। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামপদ মণ্ডল ও আরএসএসের জেলা নেতা শিবাজি প্রসাদ মন্ডল দেখা করে শোক জ্ঞাপন করেছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লাদাখে ভারত- চীন সীমান্তে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। চীন সেনাবাহিনী বারবার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করছিল। এই নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান এবং চীনের সেনাবাহিনীর প্রধান এর বৈঠকও হয়েছিল। তারপর চীন সেনা ২.৫ কিমি মত পিছিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সোমবার সকালে ভারত-চীন দুই দেশের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ে বৈঠক হয়। তারপর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে এবং রাত্রে লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনার উপর আক্রমণ চালায় চিনের সেনা। বৈঠকের পরেও এরকম ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে কেউ আশা করেনি।
গতকাল সকাল পর্যন্ত খবর ছিল যে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনার একজন অফিসার সহ আরও দুজন জওয়ান শহীদ হয়েছেন। কিন্তু সংবাদসংস্থা ANI এর রাত ১০ টার প্রতিবেদন অনেকটাই চমকে দিয়েছে সকলকে। সংবাদসংস্থাটি এর থেকে জানা গিয়েছে, লাদাখের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছে। এছাড়া হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুরুতর জখম ১৭ জনের মতো ভারতীয় সেনা।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সূত্র অনুসারে, ভারতীয় সেনারাও চিনকে পাল্টা জবাব দিয়েছে। চিনের কম্যান্ডিং অফিসার সহ ৪০ জন চিনা সেনাকে নিকেশ করেছে ভারতীয় জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, আজ সকালে হেলিকপ্টার দিয়ে চিনা সেনাবাহিনীর লাশ সরানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে লাল ফৌজ।