ইজ়রায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জট, ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারল না কোনও পক্ষ, সামনে চার সম্ভাবনা

ইজ়রায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জট, ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারল না কোনও পক্ষ, সামনে চার সম্ভাবনা

ইজ়রায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের গণনা শেষ হলেও সরকার গঠন নিয়ে কাটছে না অনিশ্চয়তা। নির্বাচনে কোনও পক্ষই সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন যেমন অনিশ্চিত, তেমনই বিরোধী শিবিরের পক্ষেও সরকার গঠন সহজ হচ্ছে না। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে আপাতত চারটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে।

ইজ়রায়েলের আইনসভা নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্য দিকে, বিরোধী নেতা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল গাদি আইজ়েনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব মুসলিমদের দু’টি সংগঠন। শাসকজোটের ৫৩টি আসনের মধ্যে একক ভাবে ২৭টি আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।

সম্ভাবনা ১: বিরোধী জোট ভেঙে শরিকদের নিজেদের দিকে টানতে পারেন নেতানিয়াহু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিরোধী জোটের দক্ষিণপন্থী দলগুলিকে নিজেদের শিবিরে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু। ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ওই দলগুলির সঙ্গে লিকুদ পার্টির নীতিগত পার্থক্য খুব বেশি নয়। তা ছাড়া, বিরোধী শিবিরের অন্যতম নেতা নাফতালি বেনেটের দল ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সরকারের শরিক ছিল। সেই সময়ে বেনেট নিজেও ইজ়রায়েলের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু।

সম্ভাবনা ২: আরব দলগুলির সমর্থনে সরকার গড়তে পারে বিরোধী শিবির।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে আরব দলগুলি। বিরোধী নেতা আইজ়েনকটের দল ইয়াশার এবং অন্য বিরোধী দলগুলি আরব দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। ইতিমধ্যেই মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ইয়াইর গোলান আরব দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে এই প্রস্তাবে আইজ়েনকট কতটা সম্মত হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গাজ়ায় হামাসের সঙ্গে সংঘাত এবং সিরিয়ায় ইরান-প্রভাবিত হিজ়বুল্লার সঙ্গে সংঘাতের আবহে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে আইজ়েনকটের মতপার্থক্য রয়েছে। অন্য দিকে, আরব দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলে ইহুদি ভোটারদের একাংশের বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বিরোধী শিবিরে।

সম্ভাবনা ৩: জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ।

তৃতীয় সম্ভাবনা হিসেবে উঠে আসছে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি, আইজ়েনকটের ইয়াশার এবং অন্যান্য ছোট দল একজোট হতে পারে। দেশের স্বার্থে আপাতত বিরোধিতা ভুলে একটি সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার গঠনের পথে হাঁটতে পারে সংশ্লিষ্ট দলগুলি।

সম্ভাবনা ৪: ফের নির্বাচনের পথে ইজ়রায়েল।

দলগুলির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠনের কোনও সমাধানসূত্র না বেরোলে ফের নির্বাচনের মুখে পড়তে পারে ইজ়রায়েল। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারবেন নেতানিয়াহু। ফলে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ পাবেন তিনি। ইতিমধ্যেই দেশে একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তবে এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই নেতানিয়াহুর চিন্তা বাড়িয়েছে রক্ষণশীল হেরাডি ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজ়ম (ইউটিজে)। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটি বিরোধী শিবিরের সহযোগী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ইউটিজে। ফলে তারা সত্যিই নেতানিয়াহুর শিবির ছেড়ে বিরোধীদের দিকে ঝুঁকলে প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেও ইজ়রায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.