সিঁদুরখেলায় মেতে উঠলেন কোয়েল মল্লিক, মল্লিকবাড়ির দশমীতে সাবেকি সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী

সিঁদুরখেলায় মেতে উঠলেন কোয়েল মল্লিক, মল্লিকবাড়ির দশমীতে সাবেকি সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী

দশমী মানেই উমাকে বিদায় জানানোর পালা। চার দিনের উৎসব শেষে বিষাদের সুরে ভরে ওঠে পুজোপ্রাঙ্গণ। সিঁদুর, পান-সুপারি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ঘরের মেয়েকে কৈলাসে ফেরানোর রীতি মেনে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তেরা। কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতেও আজও অমলিন সেই পরম্পরা। ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছরের মতো এ বারও দশমীর সিঁদুরখেলায় অংশ নিলেন পরিবারের মেয়ে, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজো মানেই সাবেকিয়ানা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজোয় নিয়ম মেনেই দেবীকে বরণ করে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যেরা। দশমীতে দেবীবরণের পর সিঁদুরখেলায় মেতে ওঠেন বাড়ির মহিলারা। সেই চেনা পরম্পরায় প্রতি বছরই শামিল হন কোয়েল।

এ বার দশমীতে অভিনেত্রীর সাজেও ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, লাল ব্লাউজ়, খোঁপায় বাঁধা চুল এবং ছিমছাম সোনার গয়নায় সাবেকি সাজে ধরা দেন তিনি। দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে, পান-সুপারি ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করার পর একে অপরের সিঁথি ও কপালে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন মহিলারা। ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে দেবীকে বিদায় জানান মল্লিকবাড়ির সদস্যেরা।

দশমীর আবহে মনখারাপের সুর যে কোয়েলের মনেও ছাপ ফেলেছে, তা স্পষ্ট তাঁর সমাজমাধ্যমের বার্তায়। একটি ভিডিয়োয় অভিনেত্রী বলেন, “আজ যদিও মনখারাপের পালা। কিন্তু নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বলব, আসছে বছর আবার হবে! শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সকলে ভাল ও আনন্দে থাকবেন। অন্যদেরও আনন্দে রাখবেন।”

পুজোর প্রথম দিন থেকেই মল্লিকবাড়িতে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে হয়েছে পুজো, জমেছে পরিবারের সদস্য ও দর্শনার্থীদের ভিড়। অষ্টমীর দিন সকাল সকাল অঞ্জলিতেও অংশ নেন কোয়েল। পুজোর নানা কাজে হাত লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। এ বারও তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী নিসপাল সিংহ রানে এবং দুই সন্তান কবীর ও কাব্যা। পরিবারের সঙ্গে পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছিলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর স্ত্রীও।

কোয়েলের কাছে দুর্গাপুজো শুধুই উৎসব নয়, শিকড়ের টানও। অভিনয়ের ব্যস্ততা যতই থাকুক, পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্জলি থেকে দেবীবরণ— মল্লিকবাড়ির প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে পরিবারের ছোট-বড় সকলের উপস্থিতি পুজোর আবহকে আরও ঘরোয়া করে তোলে। দশমীতেও সেই পরিচিত ছবিই ধরা পড়ল।

উল্লেখ্য, এ বার নবমীর সন্ধ্যায় মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি অভিনেত্রী তথা বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিক-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.