দশেরার উদ্যাপনের পরেই দিল্লির বায়ুদূষণ বাড়ল। বুধবার রাজধানীর বাতাসের গুণগত মান ‘খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছনোয় দূষণ নিয়ন্ত্রণে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের প্রথম পর্যায় (জিআরএপি-১) জারি করল বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট)। বুধবার বিকেলে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণ কমাতে নির্ধারিত পদক্ষেপগুলি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টো নাগাদ দিল্লির গড় বায়ুগুণমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৪৪। মঙ্গলবার এই সূচক ছিল ১৭৯। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাতাসের মানের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (সিপিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় দিল্লির গড় একিউআই ছিল ২৩৮।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর জিআরএপি-র সংশোধিত সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সূচি উল্লেখ করেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিংহ সিরসা সমাজমাধ্যমে রাজধানীবাসীকে জিআরএপি-১-এর বিধিনিষেধ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, কোথাও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘিত হলে তা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ধুলো, বর্জ্য পোড়ানো এবং দূষণ ছড়ায় এমন যানবাহনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে জোর দিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক নাগরিককেও নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী।
সিপিসিবির নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী, একিউআই শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ‘ভাল’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘সন্তোষজনক’ এবং ১০১ থেকে ২০০ হলে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকে। সূচক ২০১ থেকে ৩০০-র মধ্যে পৌঁছলে বাতাসের মান ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’ এবং ৪০১ থেকে ৫০০ হলে ‘গুরুতর’ বলে বিবেচিত হয়। বুধবার দিল্লির একিউআই ২৪৪ হওয়ায় বাতাসের মান ‘খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে।
জিআরএপি-১ কার্যকর থাকাকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে। রাস্তার ধুলো কমাতে নিয়মিত ঝাঁট দেওয়া ও জল ছেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নির্মাণকাজের ফলে যাতে ধুলো ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকেও নজর দিতে হবে। পাশাপাশি, বর্জ্যের যথাযথ নিষ্কাশন নিশ্চিত করা এবং দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দশেরার পরেই দিল্লির বাতাসের মানের এই অবনতি রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে সরকার।

