নিশিরাতে একফালি বাঁকা চাঁদের গায়েই জ্বলজ্বল করছে একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দু। কলকাতা থেকে কোচবিহার— সোমবার রাতে বাংলার সর্বত্র আকাশ মেঘমুক্ত হতেই এই দৃশ্য নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমেও এই মহাজাগতিক দৃশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। চাঁদের ঠিক পাশে দেখা যাওয়া এই উজ্জ্বল আলোকবিন্দুটি আসলে শুক্র গ্রহ। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশে গ্রহ ও উপগ্রহের এই ‘সহাবস্থান’ খুব একটা বিরল ঘটনা না হলেও দৃশ্যটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
অমাবস্যার ঠিক তিন দিন পর সোমবার চাঁদের দৃশ্যমান অংশ ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত জুড়েই নয়, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই সোমবার এই একফালি চাঁদের সঙ্গে শুক্রের নৈকট্য উপভোগ করা গেছে। সূর্য ডোবার পর উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে, এবং দক্ষিণ গোলার্ধেও চাঁদের গায়ে শুক্রের এই অবস্থান দৃশ্যমান হয়েছে।
ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স-এর অধিকর্তা অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, এই দৃশ্য কোনো বিরল মহাজাগতিক ঘটনা নয়। পৃথিবী, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ মূলত একই সমতলে অবস্থান করে। একটি থালার কল্পিত নজির টানলে বলা যায়, সেই থালার মাঝে থাকে সূর্য এবং তার চারপাশে আবর্তিত হয় পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলি। তবে চাঁদ কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সমতলে ঘোরে না, তা সাধারণত ওই সমতলের পাঁচ ডিগ্রি উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থান করে। সোমবার চাঁদ তার কক্ষপথের সেই একই সমতলে চলে আসায় একে শুক্র গ্রহের অত্যন্ত কাছাকাছি দেখা গিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চাঁদ যে সমতলে পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমা করে এবং পৃথিবী যে সমতলে সূর্যের চারপাশে ঘোরে, সেগুলি যদি নিখুঁতভাবে একই হতো, তবে প্রতিদিনের আকাশেই চাঁদের খুব কাছাকাছি কোনো না কোনো গ্রহকে দেখতে পাওয়া যেত। মূলত চাঁদ যখন ওই সমতলে ভ্রমণ করতে করতে পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে, তখনই সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়।

