সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে প্রতিদিন নিয়ম করে ডেঙ্গির বুলেটিন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট থেকে এখন থেকে নিয়মিত এই বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজ্যে ডেঙ্গির সার্বিক পরিস্থিতি এবং আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৬ জন। সংক্রমণের মাত্রা নিখুঁতভাবে বোঝাতে মোট কতগুলি রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার মধ্যে কতজন পজিটিভ হয়েছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যও বুলেটিনে রাখা হয়েছে। তথ্যে জানানো হয়েছে, মোট ৭১২২ জনের এলিজা (ELISA) পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩৬ সপ্তাহ শেষে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।
চলতি মাসের ১ তারিখে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, মশাবাহিত এই রোগ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই আর আড়াল করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির পরেই স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এই দৈনিক বুলেটিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলো। অতীতে ডেঙ্গির পরিসংখ্যান ও তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ তুলে বহুবার সরব হয়েছিল ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্যের নিরিখে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের চিকিৎসক নেতা মানস গুমটা জানান, কোনো রোগের বিরুদ্ধে লড়তে হলে তথ্য গোপন করে তা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময় তথ্য গোপনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, যা নতুন সরকারের এই স্বচ্ছ পদক্ষেপে দূর হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকীও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, অতীতে ডেঙ্গিকে ‘অজানা জ্বর’ বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল, যা সরকারের এই পদক্ষেপে কমবে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা চিকিৎসক অজয় চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্তকে চমৎকার বলে অভিহিত করে জানান, চোখ বন্ধ করে রাখলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং ডেঙ্গি প্রতিরোধে সঠিক তথ্য প্রকাশের বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

