বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি ও ‘কুকুর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পটনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র রাজভবন অভিযান

বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি ও ‘কুকুর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পটনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র রাজভবন অভিযান

বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ১৮ আগস্ট থেকে পাটনার গর্দানিবাগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজভবন অভিযান ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসবাসভন ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পটনার রাজপথ। বিপিএসসি কন্ট্রোলারের একটি বিতর্কিত মন্তব্য এই আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে অভিযোগ।

বিপিএসসি কন্ট্রোলারের বিতর্কিত মন্তব্য ও ক্ষোভ

গত সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিপিএসসি-র এগজ়ামিনেশন কন্োলার রাজেশকুমার সিংহকে আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি একটি হিন্দি প্রবাদ ব্যবহার করে বলেন, ‘‘হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার’’ (অর্থাৎ, যাঁরা লক্ষ্যপূরণ করতে চান, তাঁদের সমালোচনায় কান দেওয়া উচিত নয়)।

বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের ‘কুকুর’ বলা হয়েছে। যদিও রাজেশকুমার দাবি করেন যে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি কাউকে আঘাত করতে চাননি। কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষোভের পারদ চরমে পৌঁছেছে। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব তাঁর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে ক্ষমার দাবি জানান। এর পরই রাজভবন ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিলের ডাক দেন পড়ুয়ারা।

পুলিশি সংঘর্ষ ও জলকামান প্রয়োগ

মঙ্গলবার গর্দানিবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের মিছিল ডাকবাংলো চকের দিকে এগোলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘাত শুরু হয়। পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করা হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন এবং পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এক ছাত্রী অসুস্থও হয়ে পড়েন। দিল্লির যন্তর মন্তরে এবং ঝাড়খণ্ডের পর এ বার পাটনার রাজপথেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি কী কী?

পড়ুয়াদের বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি:

  • টিআরই-৪ (TRE-4) পরীক্ষা: শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন পদ্ধতিতে দু’টি পর্যায় রাখা এবং ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিংয়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা এক পর্যায়েই নিতে হবে এবং নেগেটিভ মার্কিং তুলে দিতে হবে।
  • ৭০তম বিপিএসসি প্রিলিমিনারি বাতিল: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৭০তম বিপিএসসির প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে ছড়ানো প্রশ্নপত্র ‘ভুয়ো’ এবং হিন্দি মাধ্যম পড়ুয়াদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার দাবিও তারা খারিজ করেছে।
  • সংরক্ষণ ও বয়সসীমা: বিহারের সরকারি চাকরিতে ১০০ শতাংশ শূন্যপদে শুধুমাত্র রাজ্যের বাসিন্দাদেরই নিয়োগ করতে হবে এবং পরীক্ষার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দিতে হবে।

বিপিএসসি অবশ্য সাফ জানিয়েছে, নিয়োগে স্থানীয় সংরক্ষণের বিষয়টি রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। কমিশনের পরীক্ষায় বসা পরীক্ষার্থীদের ৭২ শতাংশই বিহারের বাসিন্দা।

সোমবার ছাত্রনেতা দিলীপ কুমারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। ছাত্রনেতারা মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁদের শিক্ষাসচিবের কাছে পাঠানো হয় এবং টিআরই-৪ এর পাঠ্যক্রম নিয়ে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই আলোচনার পরই প্রশাসনের তরফ থেকে সদর্থক সমাধান না মেলায় মঙ্গলবার এই ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.