আসন্ন কলকাতা এবং হাওড়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরালো করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কলকাতার পুরভোট পরিচালনা কমিটির ইনচার্জ হিসেবে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাওড়া পুরভোট পরিচালনা কমিটির ইনচার্জ করা হয়েছে আর এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহকে। শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এই দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দল যে এই নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে নামতে চলেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কলকাতা ও হাওড়ার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি
মঙ্গলবার বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে সুনীল বনসল, অমিতাভ চক্রবর্তী এবং সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কমিটিগুলি চূড়ান্ত করা হয়।
- কলকাতা পুরভোট কমিটি:
- ইনচার্জ: সুকান্ত মজুমদার (কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী)।
- কো-ইনচার্জ: অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায় (রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি)।
- আহ্বায়ক: তাপস রায় (মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী)।
- সহ-আহ্বায়ক: রীতেশ তিওয়ারি (কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক)।
- হাওড়া পুরভোট কমিটি:
- ইনচার্জ: রাহুল সিংহ (রাজ্যসভার সাংসদ)।
- আহ্বায়ক: সঞ্জয় সিংহ (বালির বিজেপি বিধায়ক)।
ভোটের সম্ভাব্য সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
হাওড়ায় বিগত আট বছর ধরে কোনো পুরবোর্ড নেই। অন্যদিকে, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে যায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকার নতুন মেয়র গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন। দুর্গাপূজার পর অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ এই নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হতে পারে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদারের মতো ওজনদার নেতাকে কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দায়িত্ব দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে দলকে চাঙ্গা করার সুনির্দিষ্ট কৌশল। রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সুকান্ত সরে যাওয়ার এবং শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সুকান্তকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও সাংগঠনিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাতেই দেখতে চাইছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও পরবর্তী কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার ৩৯ শতাংশে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুকান্তের সাংগঠনিক অবদান রয়েছে। এখন ২০২৭ সালের বাকি পুরসভা ও ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কলকাতা ও হাওড়া দিয়ে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে পদ্মশিবির।

