মোবাইলে মেসেজ দেখে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন বৃদ্ধ। অ্যাকাউন্টে আচমকাই জমা পড়েছে ৩০০০ টাকা। একটু খতিয়ে দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, এই টাকা আদতে পাওয়ার কথা এক মহিলার— যা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অধীনে বরাদ্দ। টাকা তো দূরে থাক, উল্টে এই ভুল ভাতার টাকা কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এল তা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়ে যান সামজাদ শেখ। শেষমেশ সততার পরিচয় দিয়ে সেই টাকা রাজ্য সরকারকে ফিরিয়ে দিতে সটান বিডিও অফিসের দ্বারস্থ হলেন তিনি। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের এই ঘটনায় চারদিকে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
কীভাবে সামনে এল পুরো ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের খড়কাঠি গ্রামের বাসিন্দা সামজাদ শেখ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে আসছেন। গত ১৭ আগস্ট হঠাৎই তাঁর মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ আসে, যেখানে দেখা যায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা জমা হয়েছে। টাকার অঙ্ক দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদানের টাকা।
বিডিও অফিসে গিয়ে টাকা ফেরতের আর্জি
বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সামজাদ সোজা স্থানীয় বিডিও অফিসে চলে যান। সেখানে গিয়ে আধিকারিকদের সমস্ত বিষয়টি খুলে বলেন এবং মোবাইলের মেসেজটি দেখান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি পুরুষ মানুষ, এই ভাতার জন্য আবেদনই করিনি। ফলে এই টাকা পাওয়ার কোনও অধিকার আমার নেই, তাই ফেরত দিতে এসেছি।”
এই বিষয়ে রঘুনাথগঞ্জ-২ এর বিডিও শুভময় মাঝি জানান, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম মেনে ট্রেজ়ারি চালানের মাধ্যমে ওই টাকা পুনরায় সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে এর আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা কয়েকজন পুরুষের পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ‘পুরুষ লক্ষ্মী’-র সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার খোদ মুর্শিদাবাদে খোঁজ মিলল ‘পুরুষ অন্নপূর্ণা’র! তবে লোভের বশে টাকা নিজের কাছে না রেখে, ওই বৃদ্ধ নিজেই সততার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন।

