শুভেন্দু অধিকারীর সরকার-ঘোষিত মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা না পাওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের একাধিক জেলায় চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে ব্যাপক আন্দোলনে নামেন বঞ্চিত মহিলা উপভোক্তারা। পথ অবরোধ, ট্রেন চলাচল স্তব্ধ করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় চরম নাজেহাল হতে হয় পুলিশ ও প্রশাসনকে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসকের দফতরে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক চলাকালীন ক্ষুব্ধ মহিলারা ভেতরে ঢুকে পড়লে তড়িঘড়ি প্রশাসনিক বৈঠক বন্ধ করে নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। মন্ত্রী মহিলাদের আশ্বস্ত করে জানান, মাত্র ১০০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে এবং যে কোনো ত্রুটি খতিয়ে দেখতে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। বিডিও ও এসডিও অফিসে পুনরায় কাগজপত্র যাচাইয়ের জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি আশ্বাস দিলে সাময়িকভাবে বিক্ষোভ প্রশমিত হয়।
আন্দোলনের জেরে রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় উত্তর ২৪ পরগনায়। বিরাটি স্টেশনের কাছে ফ্লাইওভারের তলায় ফ্লাইওভার সংলগ্ন রেললাইনে নেমে ১০০-র বেশি মহিলা অবরোধ শুরু করলে হাসনাবাদ-শিয়ালদহ ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। একই ছবি দেখা যায় হাবড়াতেও; সেখানে রেল অবরোধের পাশাপাশি পুরসভা অভিযানে নেমে মহিলারা কটাক্ষ করে এই প্রকল্পের নাম বদলের দাবি তোলেন।
রাজধানী কলকাতাতেও ছড়ায় ক্ষোভের আঁচ। ফুলবাগান থানা এবং বেহালা চৌরাস্তায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বঞ্চিত উপভোক্তারা, যা পরবর্তীতে বিডিও অফিস পর্যন্ত গড়ায়। পাশাপাশি, হুগলির চণ্ডীতলা ও তারকেশ্বর, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও বড়জোড়া, পুরুলিয়া শহর, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এবং আলিপুরদুয়ারের ধূপগুড়িতে জাতীয় সড়ক (৩১ নম্বর) অবরোধ ও পুলিশি ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে, পূর্বঘোষিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছানোয় রাজ্যব্যাপী প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ক্ষুব্ধ মহিলারা।

