মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসের দেওয়াল পরিষ্কার রাখা এবং হাসপাতাল চত্বরে রাজনৈতিক বার্তা বা স্লোগান লেখা বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালে দালালচক্র রোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি। পর পর দুই দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আচমকা পরিদর্শনের পর ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পরিচ্ছন্নতার নিরিখে এই হাসপাতাল ১০-এর মধ্যে শূন্য পাবে।
গত বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ পুনরায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে সারপ্রাইজ় ভিজ়িটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রথমে হাসপাতাল এবং পরে মেডিক্যাল কলেজ চত্বর ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় কলেজের দেওয়ালে ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’, ‘স্টপ রেপ কালচার’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘শিরদাঁড়া বিক্রি নেই’ ও ‘ভয় ছাড়া বাঁচতে চাই’-এর মতো একাধিক স্লোগান ও দেওয়াললিখন তাঁর নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত দেওয়াললিখন মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। তবে পরবর্তীতে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি কিছুটা নমনীয় হয়ে জানান, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক উপায়ে মতপ্রকাশ ও দাবিদাওয়া জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বা বোর্ড নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে, যাতে দেওয়াল নষ্ট না হয়।
পরিদর্শনের দ্বিতীয় দিনে প্রসূতি বিভাগে গিয়ে রোগী পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। সেখানে সিঁড়ির কোলাপসিবল গেট বন্ধ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি নির্দেশ দেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রেখে হাসপাতালের সমস্ত গেট সর্বদা খোলা রাখতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সুনিশ্চিত করতে প্রতি ১০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানো এবং রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি স্থায়ী নিয়োগ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সিনিয়র রেসিডেন্টদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েক দিন সরকারি হাসপাতালে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে দালালচক্র বন্ধে রোগীর পরিজনদের জন্য নির্দিষ্ট পরিচয় ব্যাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এ ছাড়া রোগী পরিবহণে অ্যাপ-নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পদে মহিলা কর্মী রাখা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং দ্রুত গণতান্ত্রিক উপায়ে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপরও জোর দেন তিনি।

