সরকারি হাসপাতালেই মিলবে আয়ুষ চিকিৎসা, ৪৮৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

সরকারি হাসপাতালেই মিলবে আয়ুষ চিকিৎসা, ৪৮৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

অ্যালোপ্যাথি বা মডার্ন মেডিসিন পরিষেবা প্রদানকারী রাজ্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে চালু হতে চলেছে আয়ুষ (আয়ুর্বেদ, যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসার স্বতন্ত্র বহির্বিভাগ (OPD)। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিরাচরিত ও বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আয়ুষ পরিষেবার সহজলভ্যতা বাড়াতে এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এ কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কমিউনিটি হেলথ সেন্টারেও এই বিশেষ ওপিডি চালু করা হবে।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মী নিয়োগ

নতুন এই ওপিডি ব্যবস্থা চালু করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান:

  • বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির বহির্বিভাগ পরিচালনার জন্য ৪৮৪ জন মেডিক্যাল অফিসার এবং ২৩০ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা হচ্ছে।
  • সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো রোগী চাইলে অ্যালোপ্যাথির পরিবর্তে আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি বা অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতির চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।

রাজ্য সরকার আয়ুষ চিকিৎসার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র ‘আয়ুষ দফতর’ গঠন করা হবে বলেও পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জানানো হয়েছে।

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সরকারি হাসপাতালের এক ছাদের তলায় অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি আয়ুষ চিকিৎসা চালুর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা মহলে ভিন্ন মত উঠে এসেছে।

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি সমর্থন: চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা অনুযায়ী সব চিকিৎসা পদ্ধতিকে এক ছাদের তলায় আনা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসা গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার পথ উন্মোচিত হতে পারে।”
  • আইনি সতর্কতা ও ‘মিক্সোপ্যাথি’ আশঙ্কা: প্রবীণ চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, নীতিগতভাবে ভাবনায় কোনো ভুল না থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়টি খেয়াল রাখা আবশ্যক, যাতে এক ছাদের তলায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে ‘মিক্সোপ্যাথি’ (বিভিন্ন চিকিৎসার মিশ্রণ) তৈরি না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, জটিল অসুখের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত মডার্ন মেডিসিনের ওপরেই নির্ভর করেন।
  • দেশীয় চিকিৎসার প্রসারে সমর্থন: অন্যদিকে, বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর অভিজিৎ ঘোষ সিদ্ধান্তটির প্রশংসা করে জানান, ভারতের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে জাতীয় স্তরে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমে আয়ুষ অন্তর্ভুক্তির নীতি আয়োগ ও সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) তার বিরোধিতা করেছিল। তবে রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা সরকারি মূলস্রোতে কতটা স্থান করে নিতে পারে, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.