বীরভূমের তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি নিহত ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। এই দুর্ঘটনার পর আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার কথা মাথায় রেখে তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসের নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের নির্দেশে একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। সোমবার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী এবং সেখানে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষিত ৯ লক্ষ টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে জেলাশাসকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে।
সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ
আগামী কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে রামপুরহাটের এসডিও (SDO)-র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই বিশেষ কমিটি হোটেল ও লজগুলিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করবে:
- বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা: বিদ্যুতের সংযোগ, তারের গুণমান, লোড ক্যাপাসিটি এবং সঠিকভাবে আর্থিং করা রয়েছে কি না।
- অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা: ফায়ার এক্সটিংগুইশার, হাইড্রেণ্ট এবং অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের বৈধ এনওসি (NOC)।
- জরুরি নির্গমন পথ: আপদকালীন মুহূর্তে হোটেল থেকে দ্রুত বেরোনোর জন্য নির্দিষ্ট পথ বা ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ সঠিক অবস্থায় রয়েছে কি না।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবিলম্বে এই পরিদর্শন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

