স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভারতে সক্রিয় পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’-কে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা ঘোষণা করে জানান, ভাট্টি নেটওয়ার্কের ২০০-র বেশি জঙ্গিকে গ্রেফতার করে স্বাধীনতা দিবসে বড়সড় নাশকতার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সমাজমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ১৪টি রাজ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী সুসমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই নেটওয়ার্কটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য-সহনশীলতা) নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারির পরিসংখ্যান:
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ অগস্ট একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ২০০-র বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী ও সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় এই জঙ্গি গোষ্ঠীর আস্তানাগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে আইইডি (IED), পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, কার্তুজ এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক গ্রেফতারির তথ্য:
- উত্তরপ্রদেশ: ৬২ জন
- হরিয়ানা: ৫২ জন
- দিল্লি: ৫১ জন
- পঞ্জাব: ৪৪ জন
- রাজস্থান: ১৫ জন
- মহারাষ্ট্র: ৮ জন
- উত্তরাখণ্ড: ৫ জন
- কর্নাটক, গুজরাত ও বিহার: ৩ জন করে
- তেলঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও কেরল: ২ জন করে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই পাক-নিয়ন্ত্রিত চক্রটি ভারত জুড়ে গ্রেনেড, আইইডি এবং পেট্রোল বোমা হামলার পাশাপাশি চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গকে হত্যার (টার্গেটেড কিলিং) ছক কষছিল। স্থানীয় সহযোগীদের অর্থসাহায্য দিয়ে দেশের পুলিশ ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে রেকি করা ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এরা যুক্ত ছিল।

