নিট (NEET) পরীক্ষা নিয়ে দেশজোড়া আন্দোলন এবং ঝাড়খণ্ডসহ একাধিক রাজ্যে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল দেশের ছাত্রসমাজ। ঠিক এই আবহেই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষাকে প্রাধান্য দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমাদের ছাত্রছাত্রীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগর। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেমন সরকার এবং সমাজের ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য, তেমনই আমাদের শিক্ষার্থীদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সকলকে এক হতে হবে।’’
প্রশ্নফাঁস রোধে কড়া বিল ও পরীক্ষা সংস্কার
সারাদেশজুড়ে সর্বভারতীয় নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলিতে অনিয়ম বন্ধ এবং দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে দমন করতে কেন্দ্র সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘‘সরকার পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারে পদক্ষেপ করছে এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনেও কাজ করছে। এই সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা, যাতে কেউ কোনো অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে।’’
উল্লেখ্য, নিট আন্দোলনের পর পরীক্ষাব্যবস্থায় কঠোর আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মোতাবেক ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ আনা হয়। এই সংশোধনী বিলটিতে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:
- কঠোর শাস্তি: অনিয়মের অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান দেওয়া হয়েছে।
- বিশেষ ক্ষমতা: রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতে অপরাধ দমনে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া: মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উক্ত বিলটি ইতিমধ্যেই ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাস হয়েছে। সংসদে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাসের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।

