টি-টোয়েন্টির পর এবার বাংলাদেশের একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) ক্রিকেট দলেরও অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন লিটন দাস। এর ফলে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই এখন থেকে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন। এতদিন এই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ।
একইসঙ্গে একদিনের দলে নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তরুণ ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ের নাম।
বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। তামিম ইকবাল বলেন,
“আমি বিশ্বাস করি আমাদের দু’জন অধিনায়ক থাকা দরকার। সাদা বল এবং লাল বলে আলাদা অধিনায়ক থাকলে ভালো হয়। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে দু’জন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত বোর্ডের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।”
মিরাজের নেতৃত্ব ও বোর্ডের ব্যাখ্যা
২০২৫ সালের জুন মাসে নাজমুল হোসেন শান্তর পরিবর্তে মেহেদি হাসান মিরাজকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি একদিনের ম্যাচ খেলে ১০টিতে জয়লাভ করে। মিরাজের অধিনায়কত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—পরপর এই চার শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের কাছে ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হারে দল।
অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের সাফল্যের প্রশংসা করলেও তামিম ইকবাল বলেন,
“অধিনায়ক মিরাজ অত্যন্ত সফল এবং গত কয়েকটি সিরিজে দারুণ পারফর্ম করেছে। কিন্তু বোর্ডের মনে হয়েছে, অলরাউন্ডার মিরাজকে আমাদের বেশি প্রয়োজন। ইদানীং তাঁর ব্যাটিং ও বোলিংয়ে কিছুটা প্রভাব পড়ছিল। আমরা চাই তিনি আবার নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসুন।”
বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেছেন যে মিরাজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর এবং তাঁর সম্মতিতেই অধিনায়কত্বে এই রদবদল আনা হয়েছে।
এদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধিনায়কত্বে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলকে আগের মতোই নেতৃত্ব দেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

