ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেই তীব্র দ্বিমত দেখা দিয়েছে। ‘রয়টার্স-ইপসোস’-এর সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায় জানা গেছে, দেশের প্রতি তিন জন নাগরিকের মধ্যে মাত্র এক জন (প্রায় ৩৩ শতাংশ) ট্রাম্পের এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে—এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রকৃত লক্ষ্য কী, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা
গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, পেন্টাগন কেন এই সামরিক সংঘাতের দিকে এগোল এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা ট্রাম্প প্রশাসন পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে। লক্ষণীয়ভাবে, ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের মধ্যেও প্রতি ১০ জনের চার জনই প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে সামরিক পদক্ষেপের নতুন ঘোষণার পর ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান সমর্থনের হার ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত জুন মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
ইতিহাস ও বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করে ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েনরত মার্কিন সামরিক কমান্ড ‘সেন্টকম’ (CENTCOM) নতুন করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে। এর পাশাপাশি ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধও আরোপ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার সামরিক অভিযানে জনগণের সমর্থনের হার যে পর্যায়ে থাকে, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেকটাই কম:
- ২০০১ (আফগানিস্তান যুদ্ধ): সূচনালগ্নে জনসমর্থন ছিল প্রায় ৯০%
- ২০০৩ (ইরাক যুদ্ধ): শুরুতে আক্রমণের পক্ষে ছিলেন প্রায় ৭০% নাগরিক
- ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান (ইরান অভিযান): সমর্থনের হার ধারাবাহিকভাবে ৪০%-এর নিচে অবস্থান করছে

