দেশের সামগ্রিক পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এক উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা দেশের বিশিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নীলেকণিকে এই টাস্ক ফোর্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতে অনন্য পরিচয়পত্র ব্যবস্থা ‘আধার’-এর বায়োমেট্রিক কাঠামোর রূপায়ণ তাঁরই চিন্তাভাবনার ফসল ছিল।
রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সম্প্রতি মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থায় নানা অনিয়মকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের তীব্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টাস্ক ফোর্সের রূপরেখা ও কার্যপরিধি: প্রধানমন্ত্রী জানান, এই টাস্ক ফোর্স দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার কোথায় কোথায় আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন, তা দ্রুত পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেবে। সরকার সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা শতভাগ সুনিশ্চিত করবে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্তরের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নন্দন নীলেকণির নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্ক ফোর্সে দেশবরেণ্য বিজ্ঞানী, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন:
- এস সোমনাথ: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) সাবেক চেয়ারম্যান।
- তপন ডেকা: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (IB)-র সাবেক অধিকর্তা।
- ভি কামকোটি: আইআইটি মাদ্রাজের (IIT Madras) অধিকর্তা।
- অনীতা করবাল: ভারতের সাবেক শিক্ষাসচিব।
- অমৃতলাল মীণা: বিশিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী: সাম্প্রতিক নিট-বিতর্ক কেন্দ্র করে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় ভিডিয়ো বার্তা। বার্তাটিতে প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা ইতিমধ্যেই কারারুদ্ধ। সরকারের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পাশাপাশি পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
তবে সাম্প্রতিক এই ভিডিওগুলোতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ কিংবা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, আন্দোলন চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অপর এক ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম রুখতে একটি কড়া খসড়া বিল তৈরি করা হয়েছে, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে সংসদে উত্থাপিত হবে। সেই ঘোষণার পর গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার উপস্থিতিতে তাঁর অনশন ভঙ্গ করেছিলেন। পরবর্তীতে শুক্রবার প্রকাশিত অপর একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কারমূলক উদ্যোগে মূল্যবান পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের যুবসমাজকে ধন্যবাদ জানান।

