প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রুজু হওয়া একাধিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে এবার আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে বাহিনী। পুলিশ সূত্রের বরাতে রবিবার বার্তা সংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে সংসদ ভবন অভিযানের সূচি নির্ধারিত ছিল। অরাজনৈতিক এই ছাত্র-যুব সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ও তৎকালীন হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির একাধিক থানায় মোট ১৫টি এফআইআর রুজু করা হয়।
আন্দোলনকারীদের লাগাতার দাবির মুখে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিলে যন্তর মন্তরে চলমান অবস্থান ধর্না প্রত্যাহার করে সিজেপি। এর পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শনিবার বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না—সরকার এই শর্তে সম্মতি দিয়েছে। সংগঠনের আশা, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে সরকার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে।
তবে সংবাদ সংস্থাকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো লিখিত বা প্রশাসনিক আদেশ তাদের কাছে পৌঁছায়নি। নির্দেশিকা পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে মামলা প্রত্যাহার হলেও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের নেপথ্যে থাকা ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ মূল তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে যাবে না। সংসদ অভিযানের দিন ঘটমান সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী ও প্রায় ৭০ জন আন্দোলনকারী আহত হন, পাশাপাশি ব্যাপক সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার হলেও, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত পৃথক দিকগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

