টানা নয় রাত্রি ধরে ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যার জবাবে পাল্টাও হানছে তেহরান। উত্তপ্ত এই আবহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এখন আমেরিকার সঙ্গে ‘পুরদস্তুর যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সেনা নির্বিচারে হামলা চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও ইরান যে কোনো অবস্থাতেই নিজেদের সার্বভৌম অধিকার থেকে পিছু হঠবে না, তা-ও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের ৫ শহরে বিকট বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
সোমবারে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত নয় দিন ধরে তারা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, নৌবহর এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ধারাবাহিক আঘাত হেনেছে। এমনকি অচল করার চেষ্টা চলছে তেহরানের প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক স্থানে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ় ছাড়াও চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহরসহ মোট পাঁচটি শহরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
বাস্তব মেনে প্রতিবাদের আহ্বান পেজ়েশকিয়ানের
সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে সোমবার পেজ়েশকিয়ান বলেন, “বাস্তবতা হলো, ইরান এখন পুরোদস্তুর যুদ্ধে নেমেছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং এটা মেনে নিতে হবে যে যেকোনো প্রতিরোধের ফলও ভুগতে হয়।” তবে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি যোগ করেন, শত্রুপক্ষ বুঝে গিয়েছে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েও ইরানের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন যতই কূটনৈতিক বা সামরিক চাপ সৃষ্টি করুক না কেন, তেহরান তার নীতি থেকে চ্যুত হবে না।
ক্ষণস্থায়ী সংঘর্ষবিরতি ও সংঘাত বৃদ্ধির কারণ
গত মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি বিশেষ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে হরমুজ় প্রণালীতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে পুনরায় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘর্ষবিরতি বাতিলের ঘোষণা করেন, যদিও তিনি আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বলেন।
অন্যদিকে, সংঘাতের পারদ চড়িয়ে রবিবারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানান, ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত কোনো সমঝোতাপত্রের বিন্দুমাত্র মূল্য তাঁদের কাছে নেই।
সোমবার সকালে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে খর্ব করতেই এই নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

